১১৭ মোমবাতি নিভিয়ে শতায়ুর নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ব্রিটিশ নারী ইথেল ক্যাথারহ্যাম। যুক্তরাজ্যের ইতিহাস পাতায় নিজের নামটি একেবারেই আলাদা করে লিখিয়ে নিলেন তিনি, তিনিই প্রথম কোনো ব্রিটিশ ব্যক্তি, যিনি বেঁচে থাকার ১১৭টি বসন্ত প্রত্যক্ষ করলেন। লন্ডনের কাছে সারে কাউন্টির এক কেয়ার হোমে ধুমধাম করে পালন করা হলো তাঁর এই ঐতিহাসিক ১৭তম জন্মদিন।
রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের আমল অর্থাৎ ১৯০৯ সালের ২১ আগস্ট দক্ষিণ ইংল্যান্ডের শিপটন বেলিঙ্গারে জন্ম ইথেলের। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম। জীবনের ঝুলিতে রয়েছে রোমাঞ্চকর সব ঘটনা।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রিটিশ রাজত্বকালে এক সামরিক পরিবারের শিশুদের দেখাশোনার কাজ নিয়ে একাই পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর ভারতে। ১৯৩১ সালে এক জমকালো নৈশভোজে সেনা কর্মকর্তা নরম্যান ক্যাথারহ্যামের সঙ্গে পরিচয় এবং তার ঠিক দুই বছর পর ছাঁদনাতলায় বসা।
বাঙালি বা ব্রিটিশ, রোমান্টিক গল্পের প্লট তো এমনই হয়! পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে হংকং পাড়ি দিয়ে সেখানে খুদেদের জন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন তিনি। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ১৯৭৬ সালে স্বামীকে হারান এবং দুই মেয়েও তাঁর আগেই পাড়ি জমান পরপারে। তবে, ইথেলের জীবনের ক্যানভাসে এখন আলো ছড়াচ্ছেন তাঁর তিন নাতনি এবং পাঁচ প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী।
দুই বিশ্বযুদ্ধ, রাজকীয় ক্রাশ ও করোনাজয়: ১১৭ বছরের এই সুদীর্ঘ পথচলায় তিনি নিজের চোখে দেখেছেন দুটি বিশ্বযুদ্ধ, ঐতিহাসিক টাইটানিক জাহাজের সলিল সমাধি, রুশ বিপ্লব এবং সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারি। এমনকি ২০২০ সালে ১১০ বছর বয়সে মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েও সেটিকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন তিনি।
তবে তাঁর জীবনের একটি রসে ভরা স্মৃতি না বললেই নয়! গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর ১১৬তম জন্মদিনে স্বয়ং ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁর সঙ্গে দেখা করতে কেয়ার হোমে হাজির হন। সেই সাক্ষাতে ইথেল স্মৃতির পশরা খুলে চার্লসকে মনে করিয়ে দেন ১৯৬৯ সালের কথা।
২১ বছর বয়সী তরুণ চার্লস যখন প্রিন্স অব ওয়েলস হিসেবে অভিষেক করছিলেন, সেই মুহূর্তের স্মৃতি মনে করে ইথেল সরাসরি রাজাকে বলে বসেছিলেন, ‘জানেন, তৎকালীন সময়ে তো সব তরুণীই আপনার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিল এবং আপনাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল’! ১১২ বছর বয়সেও এমন মিষ্টি ফ্লার্ট করার জাদুকরী ক্ষমতা ইথেল ক্যাথারহ্যাম ছাড়া আর কার-ই বা থাকতে পারে?
ব্রাজিল থেকে রাজকীয় শুভেচ্ছা: ইথেলের এই বিশেষ দিনে শুধু কেয়ার হোম নয়, শুভেচ্ছা ভেসে এসেছে আটলান্টিক মহাসাগরের ওপার থেকেও। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত পুরুষ ব্রাজিলের জোয়াও মারিনহো নেতো নিজ দেশ থেকেই এই ব্রিটিশ নারীকে পাঠিয়েছেন উষ্ণ জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
উচ্ছ্বসিত ইথেল জানান, পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে এই বিশেষ দিনটি উদ্যাপন করতে পেরে আমি সত্যি আনন্দিত। দেখা যাক, আগামী বছরটি আমার জন্য নতুন কী সারপ্রাইজ নিয়ে আসে!
যদিও মানবজাতির ইতিহাসে রেকর্ড বইয়ের শীর্ষে থাকা ফরাসি নারী জ্যাঁ কালমঁর (১২২ বছর ১৬৪ দিন) ছোঁয়া পেতে ইথেলকে এখনো খানিকটা পথ হাঁটতে হবে, তবে যে উদ্দীপ্ত প্রাণশক্তি নিয়ে তিনি সেঞ্চুরি পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন- তা এক কথায় অবিশ্বাস্য!
তথ্যসূত্র: সিএনএন