যুদ্ধ সাড়ে চার বছরে গড়ালেও রক্তক্ষয়ী ড্রোন হামলার তীব্রতা কমছে না এতটুকুও! রাশিয়া এবং দেশটির দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স জায়ান্ট 'ওজোন'-এর গুদাম এবং বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানকে। ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে একের পর এক রাশিয়ান হামলার জবাবে মস্কোর সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে এবার আরও কড়া চালে এগোচ্ছে কিয়েভ।
রাশিয়া ও দখলকৃত অঞ্চলে আগুনের লেলিয়ান শিখা: রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ জানান, নোভোকুইবিশেভস্ক শহরে তেল শোধনাগার এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এই হামলার প্রভাব পড়েছে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা 'ওজোন'-এর চাপায়েভস্ক লজিস্টিক সেন্টারেও। ইউক্রেনের এই লাগাতার অর্থনৈতিক হামলায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সব কর্মকাণ্ড।
অন্যদিকে, ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইয়েস্ক বন্দর নগরীতে ড্রোনের আঘাতে দুই শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। রাশিয়া সীমান্তঘেঁষা বেলগোরোদে নিহত হয়েছেন আরও দুজন। শুধু রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডই নয়, ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়ার সেভাসতোপোলে একটি সিটি বাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন আছড়ে পড়লে ২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। একইভাবে লুহানস্কেও ড্রোন হামলায় ১৬ বছরের এক কিশোরসহ দুই সিভিলিয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা রাতে মোট ৪৫৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে!
পুতিনের ‘প্যান্ডোরাস বক্স’ ও মাক্রোঁর পাল্টা চাল: এর ঠিক আগের দিনই মধ্য ইউক্রেনের একটি শপিং সেন্টারে রাশিয়ার ড্রোনের হামলায় ১৬ জন প্রাণ হারান এবং ১৩০ জনেরও বেশি আহত হন। এরপরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কিয়েভ সরকারের এই অর্থনৈতিক আক্রমণ রাশিয়ার প্রতিশোধের 'প্যান্ডোরাস বক্স' খুলে দিয়েছে!
তবে পুতিনের এই হুমকিতে মোটেও দমে যাচ্ছে না ইউক্রেন। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি মেটাতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। মাক্রোঁ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে কিয়েভের হাতে খুব দ্রুত নতুন ফরাসি সামরিক সরঞ্জাম ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে ফ্রন্টলাইনের যুদ্ধ ক্ষেত্র পেরিয়ে অর্থনীতি পঙ্গু করার এই ড্রোন-লড়াই এখন এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে!
তথ্যসূত্র: রয়টার্স