রাশিয়ার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলাকালীন ইউক্রেনে কোনো ধরনের নির্বাচন আয়োজন দেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় বা ‘সুনামি’র শামিল হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সম্প্রতি তাঁর বরখাস্ত হওয়া জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ আকস্মিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দেওয়ার পর এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন তিনি। সামরিক আইনের অধীনে নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পেছনেই অটল থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রধান।
রোববার, কিয়েভে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে ৪৮ বছর বয়সী জেলেনস্কি স্পষ্ট জানান, এই মুহূর্তে ভোট আয়োজন দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। তিনি বলেন, যুদ্ধের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে নির্বাচন একটি বিরাট ঝুঁকি। এটি ইউক্রেনের জাতীয় ঐক্যকে পুরোপুরি বিভক্ত করবে। ২০১৯ সালে ক্ষমতায় আসা জেলেনস্কি নিজেকে দেশের বিভাজন ঠেকানোর মূল শক্তি হিসেবে তুলে ধরে সতর্ক করেন, রাজনীতি ও প্রচারের চেয়ে রণক্ষেত্রে জীবন দেয়া সেনাদের সম্মান রক্ষা করা এখন সবচেয়ে জরুরি।
ড্রোন যুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড এবং সামরিক সংস্কারক হিসেবে পরিচিত তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে সম্প্রতি বরখাস্ত করেন জেলেনস্কি। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কিয়েভের রাজপথে সাধারণ মানুষ নেমে এলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়। প্রতিবাদের এক পর্যায়ে ফেদোরভ অবরুদ্ধ ইউক্রেনে নির্বাচনের পথ খোঁজার আহ্বান জানান। তবে ,সাবেক এই মন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, "আমার মনে হয় তিনি নিজে অথবা কেউ তাঁকে ভুল পথে চালিত করছে।
নির্বাচনের ব্যবহারিক বাধা ও জনমত: যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি:
- ফ্রন্টলাইনে থাকা লাখ লাখ সেনাসদস্যের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
- দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়া কোটি ইউক্রেনীয় শরণার্থীর ভোট সংগ্রহ।
- রুশ দখলকৃত অঞ্চলে থাকা নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জটিলতা।
- কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মারাত্মক ঝুঁকি।
কিয়েভ ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইউক্রেনের মাত্র ১৫ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই দেশে নির্বাচন হওয়া উচিত। ফলে বেশিরভাগ ইউক্রেনীয় এখন নির্বাচন পিছিয়ে সামরিক লড়াইয়ে মনোনিবেশ করাকেই সমর্থন করছেন।
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক বার্তা: ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের ঠিক আগেই এই ব্রিফিং দেন জেলেনস্কি। মিত্র দেশগুলোর নেতাদের উপস্থিতিতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সেনা ও সাধারণ সমাজের মাঝে কোনো ধরনের ফাটল না ধরার আহ্বান জানান।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স-সিএনএন