রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চললেও ইউক্রেন কোনো অবস্থাতেই মস্কোর শর্ত মেনে আত্মসমর্পণ করবে না বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ইউক্রেনের স্বাধীনতা অর্জনের ৩৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিশ্ববাসীকে এই দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ইউক্রেন যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দিয়ে রাশিয়ার কাছে নতিস্বীকার করার প্রশ্নই ওঠে না।
ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে দেশটির পাশে দাঁড়িয়ে একাত্মতা প্রকাশ করতে রাজধানী কিয়েভে হাজির হয়েছেন ইউরোপের একঝাঁক শীর্ষনেতা। এদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা অন্যতম।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কিয়েভ সফরে এসে অ্যান্ডি বার্নহাম ইউক্রেন সমর্থক মিত্র দেশগুলোর জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। এছাড়া লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী লুক ফ্রিডেন, মলদোভার প্রেসিডেন্ট মায়া সান্দু এবং এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যালার কারিসও ইউক্রেনীয়দের প্রতি সংহতি জানাতে ট্রেনযোগে কিয়েভে পৌঁছেছেন।
কিয়েভের সেন্ট মাইকেলস স্কয়ারে রাশিয়ার ধ্বংসপ্রাপ্ত ট্যাঙ্কের সামনে ঐতিহ্যবাহী ইউক্রেনীয় কারুকাজ করা শার্ট পরে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন অবশ্যই শান্তিমুখী, কিন্তু আমরা স্রেফ আত্মসমর্পণ করার জন্য তৈরি নই। রাশিয়া যে পুরো ডনবাস অঞ্চল হস্তান্তরের দাবি করছে, তা মেনে নেওয়া হবে না। তারা ইউরোপ ও বিশ্বকে এই বলে প্রতারিত করতে চাইছে যে, ডনবাস ছেড়ে দিলেই সব শান্ত হয়ে যাবে। আমরা তাদের এই সুযোগ দেব না।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইউক্রেনের বিশাল এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় আয়োজিত শান্তি আলোচনাগুলো বর্তমানে থমকে আছে, কারণ ইউক্রেন তাদের ভৌগোলিক ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রযাত্রার গতি আগের চেয়ে ধীর হলেও বর্তমানে দেশটির ক্রুশিয়াল ও কৌশলগত পূর্বীয় শহর কস্তিয়ান্তিনিভকা দখলের চরম হুমকি তৈরি করেছে রুশ বাহিনী।
অন্যদিকে, আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইলের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের দূরবর্তী শহরগুলোতে বিমান হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও রসদ সরবরাহের ঘাটিতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে।
জেলেনস্কি তাঁর বক্তব্যে দেশের জনগণ ও বীর সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং নতুন কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপাতে সম্ভাব্য সব কিছু সরবরাহ করে। যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে রাশিয়ার বিষয়ে তাদের সব দ্বিধা ও ভয় কেটে যাবে। একই সাথে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নীরব ভূমিকা পালন করা চীনের প্রতি ইঙ্গিত করে জেলেনস্কি বলেন, চীনেরও আর চুপ থাকা উচিত নয়।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স