১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চটকদার দুনিয়া থেকে দূরে রাখতে নতুন করে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে ফ্রান্স সরকার! দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের ধাক্কা খাওয়ার পরও দমে যাননি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। শিশুদের হাতে ডিজিটাল পর্দার লাগাম টানতে ফের এক নতুন ও কড়া আইনের খসড়া পেশ করেছে তার প্রশাসন।
গেল আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ সরকারের আগের প্রস্তাবটি এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল। আদালত সোজা জানিয়ে দেয়, ওই আইনের কিছু ধারা নাগরিকেদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় অহেতুক হস্তক্ষেপ করছে। তবে পিছু হটার পাত্র নন মাখোঁ।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গর্জে উঠে তিনি লেখেন, কঠোর ও কৌশলগত কাজ শেষে সরকার আজ নতুন খসড়াটি ইউরোপীয় কমিশনকে অবহিত করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর নীতিমালার সাথে ফরাসি এই নতুন আইনের কোনো সংঘাত আছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। প্রেসিডেন্ট মাখোঁর মেয়াদ আগামী বছরই শেষ হতে চলেছে। কিন্তু বিদায় নেওয়ার আগেই কোমলমতি শিশু-কিশোরদের সোশাল মিডিয়ার আসক্তি ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচাতে এই নিষেধাজ্ঞা তিনি যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করতে চান।
শিশুদের সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে রাখার এই ঝোঁক শুধু ফ্রান্সেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ম্যাঁক্রোর স্বপ্ন, পুরো ইউরোপ মহাদেশজুড়েই চালু হোক এমন নিয়ম। ম্যাঁক্রোর এই ডিজিটাল লড়াইয়ে সুর মেলাতে প্রস্তুত ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েনও।
চলতি সপ্তাহেই ব্রাসেলসে দেওয়া এক ভাষণে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের লাগাম ধরার বিষয়ে তিনি বড় ঘোষণা দিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
কিশোর মনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষাক্ত প্রভাব, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ এখন তুঙ্গে। তাই তো ফ্রান্সের এই নতুন চালে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, শিশুদের জন্য ডিজিটাল দুনিয়ার মুক্ত দরজা খুব শীঘ্রই এক বিশাল তালা দিয়ে বন্ধ হতে চলেছে!
তথ্যসূত্র: এএফপি