জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল- ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) প্রথম স্থান অধিকার করে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। অন্যদিকে এই নির্বাচনে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রেডারিখ মার্জ।
তাঁর মূলধারার রক্ষণশীল দল ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ (সিডিইউ) ১৯৪৯ সালের পর রাজ্যটিতে নিজেদের সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছে। রাজ্যটির প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় এএফডি ৩৮.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে।
সামাজিক গণতন্ত্রী দল (এসপিডি) ৩৫.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও চ্যান্সেলর মার্জের দল পেয়েছে মাত্র ৪.৯ শতাংশ ভোট। ফলে আঞ্চলিক আইনসভায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৫ শতাংশের সীমা স্পর্শ করতে না পারায় তারা রাজ্য সংসদ থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের পর ফ্রেডারিখ মার্জ এই বিপর্যয়কে চরম বিপর্যয় হিসেবে স্বীকার করে নিলেও পদত্যাগ না করে চ্যান্সেলর পদে বহাল থাকার এবং তাঁর অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
একই দিনে দেশটির রাজধানী বার্লিনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও চ্যান্সেলর মার্জের দল চরম বড় ধাক্কা খেয়েছে। সেখানে চরম বামপন্থী লিংকে পার্টি ২৫.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথমবার কোনো রাজ্য নির্বাচনে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে, যা তাদেরকে কর্পোরেট বাড়িওয়ালাদের থেকে আবাসন জাতীয়করণ ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। সেখানে ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদার সিডিইউ’র ভোট কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশে। এমনকি তুলনামূলকভাবে উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত বার্লিন শহরেও উগ্র ডানপন্থী এএফডি ১৬.৩ শতাংশ ভোট লাভ করে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির জানান দিয়েছে।
মূলত জার্মানিতে অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক মন্দাই এসব সাধারণ নাগরিককে বিকল্প ডান ও বামপন্থী রাজনীতির দিকে আকৃষ্ট করছে।
মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ার জনপ্রিয় এসপিডি প্রিমিয়ার মানুয়েলা শোয়েসিগ জানান, মার্জ সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক সংস্কারের সমালোচনা করার কারণেই সাধারণ ভোটাররা ক্ষমতাসীন দলের ওপর আস্থা হারিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ইউক্রেন যুদ্ধে জার্মানির বিপুল পরিমাণ আর্থিক ও সামরিক সহায়তার ঘোর বিরোধী।
তাছাড়া ২০২২ সালে নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন ধ্বংসের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় জার্মানবাসী আবার রাশিয়ার সাথে সস্তা জ্বালানি বাণিজ্য চালু করার দাবি জানাচ্ছেন। অর্থনৈতিক গবেষক মার্সেল ফ্রাটশার সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা বজায় থাকলে ২০২৯ সালের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে এএফডি-র বড় ধরনের সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স