হামলা হলে লড়তেও তৈরি, সরতেও প্রস্তুত লিথুনিয়া

রাশিয়ার দিক থেকে ক্রমাগত বাড়তে থাকা সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ সরিয়ে নেয়ার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাল্টিক দেশ- লিথুনিয়া। তবে, রাশিয়ার কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না এবং আক্রান্ত হলে তারা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না বলে সোফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিন্দাউগাস সিঙ্কেভিচিউস।

লিথুনিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিন্দাউগাস সিঙ্কেভিচিউস ছবি: সংগৃহীত
বিবিসির ফ্ল্যাগশিপ অনুষ্ঠান 'নিউজনাইট'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আকাশসীমায় বারবার রুশ ড্রোনের অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে লিথুনিয়ার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত নিজেদের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি অনুভব করছেন। কোনো প্রকার যুদ্ধ বা আক্রমণের মুখোমুখি হলে কীভাবে বয়স্ক নাগরিকদের শহর থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া যায় এবং ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির আলোকেই এই সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

ন্যাটো সদস্য লিথুনিয়া রাশিয়ার কৌশলগত ছিটমহল কালিনিনগ্রাদের সাথে সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে নিজেদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে লিথুনিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা প্রতিদিন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন, যা তাদের কাছে এক বাস্তব ও নির্মম সত্য।

Lithuania Army 04
প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি যুক্তরাজ্যের মতো মিত্র দেশগুলোকে তাদের সামরিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান, কারণ রাশিয়ার ভৌগোলিক সীমানার একদম কাছে অবস্থানের কারণে লিথুনিয়া অনেক বেশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ন্যাটোর পঞ্চদশ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো এক সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা লিথুনিয়া, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়াকে ২০০৪ সালে ন্যাটোতে যোগ দেয়ার পর থেকেই যৌথ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।

ন্যাটো ফাইটার পাইলটদের দ্বারা লিথুনিয়ার আকাশসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঠিক এক সপ্তাহ পর এই উচ্ছেদ পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে এলো। ড্রোনটির উৎপত্তি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও লিথুনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোবার্তাস কাউনাস জানিয়েছেন, এটি রাশিয়ার অন্যতম প্রধান মিত্র বেলারুশের দিক থেকে উড়ে এসেছিল।

Lithuania Army 02
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানান, লিথুনিয়া ও ইতালীয় বিমান বাহিনীর দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপের কারণে ন্যাটো নিজেদের আকাশসীমা রক্ষায় প্রস্তুত বলে আরও একবার প্রমাণ করেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপের আকাশে সামরিক ড্রোনের অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

ড্রোন সতর্কবার্তার কারণে মে মাসে লিথুনিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসের বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয় এবং কিছু সময়ের জন্য বিমান ও ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলোর পথ পরিবর্তন করতে রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলেই এসব ড্রোন প্রায়শই পাশের বাল্টিক দেশগুলোতে প্রবেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।