পুতিনকে ট্রাম্পের নিমন্ত্রণ, ধীরে চলো নীতিতে ক্রেমলিন!

ডিসেম্বরের কনকনে ঠান্ডায় ফ্লোরিডার মিয়ামিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মেগা বৈঠক হতে চলেছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে চরম জল্পনা তুঙ্গে। জি-২০ সম্মেলনের সুবাদে রুশ প্রেসিডেন্টকে ফ্লোরিডার মাটিতে এক ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

তবে ট্রাম্পের এই তড়িঘড়ি নিমন্ত্রণে এখনই গলে যাচ্ছে না মস্কো! আমন্ত্রণপত্র হাতে পেয়ে ধন্যবাদ জানালেও, পুতিন আদৌ মিয়ামির বিমানে উঠবেন কি না বা দু’জনের আলোচনার মূল এজেন্ডা কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখনই কোনো সবুজ সংকেত দিতে নারাজ ক্রেমলিন।

মার্কিন প্রস্তাবে বরফ না গলিয়ে বেশ রয়ে-সয়েই চাল চালছেন ক্রেমলিনের প্রতাপশালী মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পেসকভ একপ্রকার সটান জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তেই মিয়ামি সামিট বা বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেশি দূর ভাবা নেহাতই অকালেই কথা বলা।

মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া উষ্ণ আমন্ত্রণপত্রকে মূল্য দিয়ে তিনি বলেন, আমরা নিশ্চয়ই এই আন্তরিক নিমন্ত্রণকে সাধুবাদ জানাই এবং এর যথাযথ মূল্যায়ন করছি। তবে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা ও দুই দেশের সমন্বয়ের মাধ্যমেই কেবল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। পেসকভের এই তীক্ষ্ণ ও নমনীয় কূটনৈতিক মন্তব্য বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটনের পাতা বিশ্বমঞ্চে তড়িঘড়ি পা দিতে নারাজ পুতিন।

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জোরালো উদ্যোগ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের একের পর এক মধ্যস্থতার চেষ্টা সত্ত্বেও এখনও কাজের কাজ কিছুই হয়নি, মেলেনি বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য। উল্টো ট্রাম্পের অস্থায়ী ‘যুদ্ধবিরতির’ ধারণার জবাবে নিজেদের চিরচেনা কঠোর অবস্থানেই অনড় রয়েছে রাশিয়া।

পেসকভ আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মস্কো কোনো সাময়িক বা পাতানো যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং স্থায়ী ও সার্বিক শান্তি চুক্তির পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল আলোচনার টেবিলে বসবেন ভ্লাদিমির পুতিন। ট্রাম্পের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে পুতিন শেষ পর্যন্ত মিয়ামিতে গিয়ে মুখোমুখি হন নাকি মস্কো ট্রাম্পকে আরও কিছুদিন ঝুলিয়ে রাখে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো বিশ্ব কূটনৈতিক পাড়া!

তথ্যসূত্র: রয়টার্স