ইউরোপজুড়ে পরমাণু হামলার হুমকি দিলো রাশিয়া!

এবার ন্যাটোকে কঠোর কূটনৈতিক বার্তা পাঠালো রাশিয়া। বাল্টিক সাগরবেষ্টিত রাশিয়ার অতিগুরুত্বপূর্ণ এক্সক্লেভ এলাকা 'কালিনিনগ্রাদ'-কে বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ সমস্ত সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে মস্কো।

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে পাঠানো এক অতি-গোপনীয় কূটনৈতিক নথিতে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, ন্যাটোর বর্তমান পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপজ্জনক, যা সরাসরি এক সশস্ত্র সংঘাত ডেকে আনতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা ওই দলিলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যাটোর এমন অপচেষ্টা শুরু হওয়া মাত্রই জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হামলা চালানো হতে পারে।

Russia Atom 02
কালিনিনগ্রাদ কেন্দ্রিক বিবাদ ও পারমাণবিক হুঁশিয়ারি:
পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ হলো রাশিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিকীকৃত এক ভূখণ্ড, যা আয়তনে আমেরিকার কানেটিকাট রাজ্যের চেয়ে কিছুটা বড়। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহ তৈরি হওয়ার পর থেকেই ন্যাটো জোট কালিনিনগ্রাদের কাছে সামরিক মহড়া বৃদ্ধি, গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ এবং রুশ জাহাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরির মতো পদক্ষেপ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আসছে মস্কো।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই কড়া বার্তাকে ইউরোপের ‘উত্তপ্ত মাথার’ নেতাদের জন্য একটি সময়োপযোগী কূটনৈতিক স্মরণ করিয়ে দেওয়া বলে অভিহিত করেছেন। ভিয়েনাভিত্তিক পারমাণবিক বিশ্লেষক ও সাবেক রুশ কূটনীতিক নিকোলাই সোকোভ জানান, কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টা ইউরোপীয়দের চোখে যুদ্ধের নিচে থাকা কোনো বিষয় মনে হলেও, রাশিয়ার কাছে তা খোলাখুলি যুদ্ধ হিসেবেই গণ্য হবে। উভয় পক্ষের ভুল হিসাব-নিকাশের কারণে পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

Putin
ন্যাটোর কড়া জবাব ও ইউরোপীয়দের উদ্বেগ:
রাশিয়ার এই পারমাণবিক হুমকির জবাবে ন্যাটো লিখিত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, তারা একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং তাদের কোনো কার্যক্রম বা সামরিক মহড়া রুশ ভূখণ্ডের জন্য হুমকি নয়। একই সঙ্গে অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক উসকানি থেকে বিরতি দিয়ে রাশিয়াকে ইউক্রেন থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ন্যাটোর এক কূটনীতিক জানান, এই চিঠি মূলত ইউরোপীয় দেশগুলোকে ভয় দেখানোর আরেকটি ব্যর্থ চেষ্টা, যা ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া থেকে তাদের নিরস্ত করতে পারবে না। অন্যদিকে, এক জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে স্বীকার করেছেন যে, স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর এবারই প্রথম রাশিয়া তাদের এতটা সরাসরি ও বড় ধরনের পারমাণবিক আক্রমণের হুমকি দিল। ইউরোপীয় দেশগুলো যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বা নাশকতার অভিযোগ তুলছে, তখন মস্কোর এই চরম বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে এক ভয়াবহ ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।