আসন্ন তীব্র শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক নজিরবিহীন ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার ভোরে পরিচালিত এই হামলায় রাতারাতি ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, গ্রীষ্মকালের পর থেকে প্রতিদিন ছোটখাটো হামলা হলেও, গত শীতকালীন উত্তাপ মৌসুমের পর এতটা ভয়াবহ ও বড় মাত্রার সম্মিলিত হামলা আর দেখা যায়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, কিয়েভ এবং এর আশেপাশের এলাকার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে প্রায় ১৯০টি ড্রোন ও বিপজ্জনক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রুশ বাহিনী। হামলা চলাকালে একটি শিশুসহ অন্তত ৫ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। কিয়েভের আকাশে হামলার ফলে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের জানালা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া কিয়েভ সিটি মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানান, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি পশ্চিমা দূতাবাসের প্রাঙ্গণে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ এসে পড়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিশাল হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তাকারী একটি তথ্য কেন্দ্র (ডেটা সেন্টার), কিয়েভ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি পাওয়ার প্ল্যান্ট, ওডেসা অঞ্চলের শিল্প কমপ্লেক্স এবং ইজমাইল বন্দরের অবকাঠামোতে নিখুঁত আঘাত হেনেছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোতে আতঙ্ক ও ন্যাটোর সতর্কতা: রাশিয়ার এই দূরপাল্লার হামলার রেশ কিয়েভ ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। হামলার সময় একটি ক্ষতিকারক ড্রোন আকাশসীমা লঙ্ঘন করে মলদোভায় প্রবেশ করে এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় হিরবোভেট গ্রামের কাছে বিস্ফোরিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো জোটভুক্ত প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড এবং রোমানিয়া তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক যুদ্ধবিমান আকাশে উড়াল দেয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে পোল্যান্ডের লুবলিন ও রেজো বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।

শীতের জোর প্রস্তুতি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার আকুতি: গত বছর রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের পুরো শহর মাসের পর মাস অন্ধকার ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় নিমজ্জিত ছিল। এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেটস্কি জরুরিভিত্তিতে সব অঞ্চলে ব্যাকআপ পাওয়ার বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নতুন করে পাওয়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ইউক্রেন এখনও পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার অভাবে ভুগছে। আসন্ন তীব্র শীতের হাত থেকে দেশের জনগণকে বাঁচাতে তিনি মিত্র দেশগুলোর কাছে দ্রুত আরও কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
