স্পেনে তীব্র আবাসন সংকট এবং এক বয়স্ক নারীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপের জেরে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। গত শুক্রবার স্পেনের পার্লামেন্টে আবাসন সংকট সমাধানের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আইন সংক্রান্ত বিলটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরেই তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
২০১৮ সাল থেকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা সানচেজের সরকারের স্বাভাবিক মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত। তবে পার্লামেন্টে নিজের দলের প্রস্তাবিত বিল পাস করাতে না পেরে তিন বছর আগেই নির্বাচনে যাওয়ার এই নজিরবিহীন পথ বেছে নিলেন তিনি।
স্পেনজুড়ে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া গণবিক্ষোভের নেপথ্যে ছিল এক ৮৭ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে নিজের বাড়ি থেকে অমানবিক উচ্ছেদের ঘটনা। বাড়িভাড়া এক লাফে ৫০০ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ২,৬৫০ ইউরো করা হলে ওই বৃদ্ধা তা পরিশোধে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বাড়িওয়ালা ভাড়া কিছুটা কমিয়ে ১,৬৫০ ইউরো করলেও তা বৃদ্ধার মাসিক পেনশনের চেয়ে ৩০০ ইউরো বেশি ছিল। চরম অস্বাভাবিক এই ভাড়া বৃদ্ধির ফলে বয়োবৃদ্ধ নারীটিকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হলে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জনগণের তোপের মুখে পড়ে আবাসন সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নতুন কিছু পদক্ষেপ ও আইন পাসের চেষ্টা করেছিল পেদ্রো সানচেজের সরকার। কিন্তু পার্লামেন্টে আইনটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পর সানচেজ আর সময় না বাড়িয়ে সরাসরি জনগণের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে এই আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক জরিপ ও জনমত সমীক্ষাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন এই নির্বাচনে দেশটির কনজারভেটিভ (রক্ষণশীল) দলগুলোই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। ফলে স্পেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ ও নাটকীয়তা।
তথ্যসূত্র: বিবিসি