সিরিয়া জুড়ে সপ্তাহান্তে জ্বালানি তেলের মূল্য হঠাৎ এক ধাক্কায় রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধিতে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র গণবিক্ষোভ। প্রায় দুই বছর আগে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে এটিই দেশটিতে সবচেয়ে বড় এবং বিস্তৃত গণবিক্ষোভের ঘটনা।
শনিবার সিরিয়া সরকার ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৭৫ সিরিয়ান পাউন্ড (১.৩২ মার্কিন ডলার) নির্ধারণ করার পর ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা রাস্তাঘাটে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে তারা রাজধানী দামেস্কের সঙ্গে শিল্পনগরী আলেপ্পোর সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বছরের পর বছর ধরে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত সিরিয়ানদের নতুন করে চরম বিপাকে ফেলেছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি- ইউএনডিপি’র মতে, ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত, বর্তমানে তা বেড়ে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ঘোষিত একাধিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে এটিই সবচেয়ে তীব্র বৃদ্ধি। ডিজেল ছাড়াও সরকার গৃহস্থালি ও শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রায় ৯ শতাংশ, ৯৫-অকটেন পেট্রোলের দাম ২৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১৯৫ পাউন্ড এবং ৯০-অকটেন পেট্রোলের দাম ২৬ শতাংশ বাড়িয়ে ১৮৫ পাউন্ড নির্ধারণ করেছে।
বিক্ষোভকারীরা মধ্য সিরিয়ার শোধনাগার অভিমুখে যাওয়া তেলের ট্যাঙ্কারগুলোর কনভয়ও আটকে দেন। আন্দোলনকারীদের অনেকেই বিদ্যুৎ ও অর্থনীতিমন্ত্রী এবং সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানির প্রধানের পদত্যাগের দাবি তোলেন।
আলেপ্পোয় রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইয়াসির সেলিম নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমরা বাড়তি বেতন চাই না। আমরা শুধু ডিজেল এবং অন্যান্য জ্বালানির দাম কমানো দেখতে চাই।
আরেক বিক্ষোভকারী বাসাম আল-আলি সরাসরি দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা'র দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, বর্তমানে পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সীমান্ত পারাপার থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার আয় হলেও শপিং মল বা নতুন অবকাঠামোর চেয়ে সাধারণ মানুষের একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার সুযোগটাই বেশি জরুরি বলে তিনি জানান।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুলহামিদ সালাত রোববার জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দাম এবং আমদানির ওপর অত্যধিক নির্ভরতার কারণে সাময়িকভাবে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক হয়েছে। পরিবেশ স্বাভাবিক হলে দাম পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
চলতি বছর সিরিয়া প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। কিন্তু রুশ শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনীয় হামলার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় মস্কো পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ফলে সরবরাহ সংকটে পড়েছে সিরিয়া। এছাড়া দেশটির সর্ববৃহৎ বানিয়াস শোধনাগারটি দীর্ঘ তিন মাস ধরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় বাজারে এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে ৯৫-অক্টেন পেট্রোলের দাম প্রায় ৮৬ শতাংশ বেড়েছে এবং ডিজেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ট্যাক্সি ড্রাইভার ইমাদ আবু রাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যাত্রীরা এখনই অভিযোগ করছে। জ্বালানির দামের সাথে শাকসবজিসহ সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। আমাদের এখন কী উপায়- চুরি করব? আমরা তো চুরি করতে পারি না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
