হাজারো মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল মাদ্রিদের রাজপথ

ইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নানা অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে রাষ্ট্রীয় পেনশন স্কিম রক্ষার দাবিতে সমবেত হয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। আগামী মাসের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিক্ষোভকারীরা শনিবার মাদ্রিদের ঐতিহাসিক আতোচা ট্রেন স্টেশন থেকে শুরু করে ব্যস্ততম ও বিখ্যাত রাজপথ গ্রান ভিআ পর্যন্ত এক বিশাল মার্চ করেন।

স্পেনের বর্তমান রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধির পেছনে মূলত বেশ কিছু কারণ কাজ করছে। যার মধ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা, কম জন্মহার, মজুরি স্থবিরতা এবং কর্মজীবী মানুষের তুলনায় পেনশনভোগীর সংখ্যা কমে যাওয়া।

এছাড়া মাসিক পেনশন বিল এ বছর রেকর্ড গড়ে প্রায় ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরো বা ১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হলো- পেনশনের হার যেন মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত বৃদ্ধি করা হয় এবং জেন্ডার পেনশন গ্যাপ বা লিঙ্গভিত্তিক পেনশন বৈষম্য চিরতরে দূর করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া আন্দোলনকারীদের হাতে ‘আমাদের পেনশন রক্ষা ও নিশ্চিত করুন’ লেখা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়।

মাদ্রিদ বিধানসভার বামপন্থী দল ‘মাস মাদ্রিদ’-এর উপ-মুখপাত্র এমিলিও দেলগাদো সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, কোনো পেনশনই ন্যূনতম মজুরির নিচে হওয়া উচিত নয়। এক জীবনের কঠোর পরিশ্রমের পর প্রতিটি মানুষেরই একটি মর্যাদাপূর্ণ অবসর পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলেও পেনশন ইস্যু নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে ডানপন্থী পপুলার পার্টি (পিপি) জয়ী হলে তারা মুদ্রাস্ফীতি-ভিত্তিক পেনশন বৃদ্ধি পরিকল্পনা দুর্বল করে দিতে পারে।

তবে পিপির নেতা আলবার্তো নুনেজ ফিজোহ গত সোমবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাঁর দল নির্বাচনে জয়লাভ করলে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখেই পেনশন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা হবে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী সানচেজও ক্ষমতায় বহাল থাকলে পেনশন সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন যে বর্তমান পেনশন ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ সাশ্রয়ী। তবে ক্রমবর্ধমান পেনশনভোগী ও মাসিক পেমেন্ট বেড়ে যাওয়ায় এই ব্যবস্থাটি দিন দিন অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় তহবিলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা