বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স, সংঘর্ষ-টিয়ার গ্যাস-জলকামান

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার অবনতিশীল অবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত হলো ব্যাপক গণবিক্ষোভ। দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে লাখ লাখ মানুষের পদযাত্রা চললেও সন্ধ্যার পর রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ বাধে। সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক বা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ত নুনেজ।

France Protest 05
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যার মধ্যে শুধু প্যারিসেই উপস্থিত ছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে দেশটির অন্যতম বড় শ্রমিক ইউনিয়ন কনফেডারেশন সিজিটি’র দাবি, প্রকৃত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এর প্রায় দ্বিগুণ।

France Protest 04এদিন প্যারিসের পোর্ট ডি'ইতালি থেকে শুরু হওয়া আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর পদযাত্রাটি বিকেলের দিকে পোর্ট দে ভিনসেনে গিয়ে পৌঁছায়। তবে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। পুলিশের ব্যারিকেড ও রুট পরিবর্তনের আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আন্দোলনকারীরা। বিশেষ করে মূল শহরের কেন্দ্রস্থল বাস্টিল ও ন্যাশন চত্বরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে শহরের কিনারায় রুট সীমাবদ্ধ করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

France Protest 01
সন্ধ্যায় পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিলে কালো পোশাকধারী কিছু উগ্র কর্মী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। প্যারিস পুলিশ জানায়, বিক্ষোভে প্রায় ৫০০ জন কট্টর ও দাঙ্গাবাজ ব্যক্তি পুলিশকে আক্রমণ ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।

France Protest 03
তবে গত সপ্তাহের তুলনায় সহিংসতার মাত্রা কম ছিল এবং কোনো সরকারি ভবন বা থানায় সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে লুভর মিউজিয়াম, ওরসে মিউজিয়াম এবং ২৪টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ছিল বাড়তি নিরাপত্তা।

France Protest 07
দেশজুড়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ত নুনেজ জানান, দেশের বেশিরভাগ স্থানে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে হলেও কিছু এলাকায় উগ্র বামপন্থী ও মুখোশধারী যুবকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে।

France Protest 06
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। উল্লেখ্য, ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ দানা বেঁধে উঠছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি-সিএনএন-রয়টার্স