বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগমের দেশ ফ্রান্সে এখন আর আগের সেই ঝলমলে আভিজাত্যের আমেজ নেই। গত সপ্তাহের লঙ্কাকাণ্ডের পর শনিবার নতুন করে রাজপথে বিক্ষোভের ডাক এসেছে। ফলে ফ্রান্সের রাজপথের অতি-পরিচিত সেই কাঁচের শো-রুমগুলো কাঠের তক্তা দিয়ে তড়িঘড়ি ঢেকে ফেলা হচ্ছে।
বিলাসবহুল ফ্যাশন ও গয়নার তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত প্যারিস, মার্সেই ও বর্দো শহরের অলিগলি এখন নতুন করে এক অচেনা ভয়ের মুখে। লাখ লাখ টাকার 'শ্যানেল' হ্যান্ডব্যাগ কিংবা 'হারমেস' স্কার্ফ কিনতে বিশ্বের যেসব বিত্তশালীরা ফ্রান্সে আসতেন, তাদের কেনাকাটায় এখন বড়সড় ছেদ পড়ার জোগাড়।

গত সপ্তাহে শত শত দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের স্মৃতি এখনো তরতাজা। তাই জীবনের ঝুঁকিতে আর কোনো রূপকথার কেনাকাটা সাজাতে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা।
শনিবার রাজধানীর বিখ্যাত প্লেস ভেনডম এলাকার রোলেক্স ও ডি বিয়ার্স-এর মতো অভিজাত জুয়েলারি শোরুমগুলো খোলাই হচ্ছে না। আইডব্লিউসি-র মতো ঘড়ির শোরুমগুলো জানিয়েছে, রাজপথের উত্তাপ বুঝে তারা সময়মতো ঝাঁপ ফেলে দেবে।

এদিকে শিক্ষার্থী সংগঠন ইউএনইএফ এবং ২০১৮ সালের আলোচিত 'ইয়েলো ভেস্ট' আন্দোলনের কর্মীরা জীবনযাত্রার ঊর্ধ্বমুখী খরচ আর সরকারি সুযোগ-সুবিধা হ্রাসের প্রতিবাদে যখন রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এলভিএমএইচ গ্রুপের লুই ভিটন, ডিওর কিংবা বুলগারির মতো বিশ্বসেরা ব্র্যান্ডগুলো নিজেদের দোকানে রাতারাতি বাড়তি নিরাপত্তার ঘেরাটোপ তৈরি করেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিস্থিতি সামলাতে ৭০ হাজার সশস্ত্র পুলিশ নামালেও ধনী ক্রেতাদের মন জয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনিতেই ইরানে চলমান উত্তেজনার দরুন বিশ্বজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের সংখ্যা কমছিল, তার ওপর ফ্রান্সের এই রাজপথের দাঙ্গা বিখ্যাত ফ্যাশন হাউসগুলোর বার্ষিক আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে।

এক বিক্রয়কর্মী আফসোসের সুরে জানালেন, কেনাকাটা তো শুধু টাকা দিয়ে হয় না, মনের আমেজটাও আসল। রাজপথে যখন স্লোগান আর হুড়োহুড়ি, তখন আর কে-ই বা লাখ টাকার ঘড়ি কিনতে দোকানে ঢুকবে? এক কম্বোডীয় পর্যটক লুই ভুটনে কেনাকাটা শেষে অভিজ্ঞতা ভাগ করতে গিয়ে বললেন, ফ্রান্সে কেনাকাটা করা আমাদের ভীষণ প্রিয়, কিন্তু গত সপ্তাহের বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা যা হলো, তাতে এরপর আর আসবো কি না- ৫০/৫০ ভাবতেই হচ্ছে!
সংকট কাটাতে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর প্রাঁত বাণিজ্যিক ভবনের কাঁচ ও প্রবেশদ্বার মেরামত করে অতিরিক্ত পাহারা বসিয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাজপথের আন্দোলনের এই উত্তাপ কাটবে কবে, সেই হিসাব মিলাতে গিয়েই এখন নাভিশ্বাস উঠছে ফরাসি বিলাসী ব্যবসার হর্তাকর্তাদের!
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
