ব্রাসেলসে সরকারবিরোধী তীব্র বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

শিক্ষাশাতে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ ও সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও পেপার স্প্রে প্রয়োগ করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং পুলিশের অতিরিক্ত সহিংস আচরণের প্রতিবাদে গত কয়েক মাস ধরে চলা ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার পুনরায় রাজপথে নামেন প্রধানত তরুণ শিক্ষার্থীরা। গত সপ্তাহের সহিংসতা এবং প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সের তীব্র গণবিক্ষোভের তুলনায় ব্রাসেলসের এদিনের সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও উত্তেজনার কমতি ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ ধাওয়া করলে তরুণ আন্দোলনকারীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং অনেকে মাটিতে পড়ে যান। সে সময় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এক বিক্ষোভকারীকে কিল-ঘুসি ও লাথি মারতে দেখা যায়। অন্যদিকে, ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা রাস্তার ট্রাফিক সাইনবোর্ড ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাড়ায় চালিত স্কুটার ও সাইকেলের ওপর স্তূপ করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি আরও বেসামাল হয়ে উঠলে বেশ কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে টিয়ার শেল মেরে পদযাত্রীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

বিকেলের দিকে ব্রাসেলস পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৫ জনকে সাময়িকভাবে আটক এবং নিষিদ্ধ অস্ত্র বহন ও সহিংসতায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টা