অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা যেতে দিতে রাজি হয়েছে ইসরাইল। বিবিসি জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার ইসরাইল সফরে গিয়ে দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানান।
পরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে মিশর থেকে গাজায় ত্রাণ যেতে বাধা না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, মিশর থেকে পাঠানো মানবিক ত্রাণ সহায়তা গাজায় পৌঁছাতে বাধা দেবে না ইসরাইল। তবে তা গাজার দক্ষিণাঞ্চলে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য খাবার, পানি ও ওষুধ হতে হবে। হামাসের কাছে যাতে ওই সহায়তা না পৌঁছায়। তবে কখন থেকে মিশর থেকে পাঠানো ত্রাণ গাজায় ঢুকতে দেওয়া হবে সে বিষেয়ে বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
জিম্মিদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ইসরাইল সীমান্ত থেকে গাজায় কোনো ধরনের মানবিক সহায়তা যেতে দেওয়া হবে না বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেল আবিবে পৌঁছানোর পর জো বাইডেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে একান্তেও বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। বিবিসি বলছে, দেশটিতে বাইডেন আট ঘণ্টার বৈঠক করেছেন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলা চালায়। এর জবাবে ওই দিন থেকেই গাজায় পাল্টা হামলা চালায় ইসরাইল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ৯ অক্টোবর পুরোপুরি গাজা অবরোধের ঘোষণা দিয়ে ইসরাইল সেখানে খাবার, পানি, ওষুধ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
ইসরাইলি সেনাদের অবরোধের মধ্যে থাকা গাজায় খাবার, পানি, ওষুধসহ জরুরি পণ্যের ব্যাপক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সেখানে পাঠানোর জন্য ত্রাণের পণ্য নিয়ে কয়েকশ’ ট্রাক কয়েক দিন ধরে মিশর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিংয়ে আটকে আছে। ইসরায়েল ওই সীমান্তেও বোমা হামলা চালিয়েছে।
জাতিসংঘ গাজার শোচনীয় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সেখানে ত্রাণ পাঠানোর সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিলো।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে অবরুদ্ধ গাজার কেন্দ্রে অবস্থিত আল আহলি হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ওই হামলায় অন্তত ৫০০ জন মারা গেছে। তবে ইসরাইলি বাহিনী ওই হামলার দায় অস্বীকার করে বলেছে, ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদি গোষ্ঠীর ব্যর্থ রকেট উৎক্ষেপণ ওই ঘটনার জন্য দায়ী।