ইসরাইলি নৃশংসতার বিরুদ্ধে কথা বলে তোপের মুখে জাতিসংঘ মহাসচিব

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি নৃশংসতার বিরুদ্ধে কথা বলে তোপের মুখে পড়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার পদত্যাগ দাবি করেছে ইসরাইল।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন গুতেরেস। তিনি তার বক্তব্যে ‘আপত্তিকর’ কথা বলেছেন বলে অভিযোগ ইসরাইলের। খবর বিবিসি’র। 

ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের জন্য গুতেরেসকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।

গুতেরেস তার বক্তব্যে বলেন, ফিলিস্তিনের গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের যে সুস্পষ্ট লঙ্ঘন দেখতে পাচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি স্পষ্টভাবে বলছেন, সংঘাতে কোনো পক্ষই আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

ইসরাইলে হামাসের হামলার বিষয়ে গুতেরেস বলেছেন, হামাসের হামলা শূন্য থেকে (কারণ ছাড়া) হয়নি। ফিলিস্তিনের মানুষ ৫৬ বছর ধরে শ্বাসরুদ্ধকর দখলদারির শিকার। তারা তাদের ভূখণ্ড বসতিতে (অবৈধ ইহুদি বসতি) পরিণত হতে দেখেছেন। সহিংসতায় জর্জরিত হতে দেখেছেন।

তিনি বলেছেন, তবে ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা হামাসের ভয়ংকর হামলাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। আবার এই হামলার জেরে ফিলিস্তিনি জনগণকে সম্মিলিত শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি ন্যায্যতা পেতে পারে না।

নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্যে গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন আন্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘ মহাসচিবের এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইল। গুতেরেসের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেন।

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিওর হাইয়াত জানান, গুতেরেস তার বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদকে ন্যায্যতা দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের মহাসচিব ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের (ইসরাইলি) পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে বরং তাদেরই দোষারোপ করেছেন। ইসরাইলিরা এমন নৃশংসতার শিকার হয়েছেন, যা তারা হলোকাস্টের পর আর দেখেননি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলার্ড এরডানও গুতেরেসের পদত্যাগ দাবি করেছেন। গিলার্ড এরডান তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ইসরাইলের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়ংকর কর্মকাণ্ডের পেছনে যারা যুক্তি দেখাতে চান, তাদের সঙ্গে কথা বলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।