অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বৃহত্তম আল শিফা হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এতে বিদ্যুতবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে হাসপাতালটি। ফলে মৃত্যুর মুখে রয়েছে সেখানে ইনকিউবেটরে থাকা ৩৯ শিশু।
হামলার সময়ে আল শিফা হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেন, আমরা মৃত্যু থেকে কয়েক মিনিট দূরে আছি। আল শিফার ভবনগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। হাসপাতালের কম্পাউন্ডের মধ্যে যেকোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি স্নাইপাররা হামলা চালাচ্ছে। খবর আল-জাজিরা’র।
অবরুদ্ধ গাজার বৃহত্তম আল শিফা হাসপাতাল ফিলিস্তিনি সহিংসতায় আহতদের প্রধান আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল। নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ সেখানে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এই পরিস্থিতিতে হুমকির মুখে পড়েছে তাদের জীবন।
আল শিফা হাসপাতালের পরিচালক জানান, হাসপাতালে বিদ্যুৎ আর জ্বালানি শেষ হওয়ায় সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। শিশুদের ইউকিউবেটরে যিনি পরিচর্যার কাজ করেন তালে গুলি করে হত্যা করে হয়েছে। আমরা ইনকিউবেটরে একটি শিশু হারিয়েছি, সেই সাথে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের একজন যুবককেও হারিয়েছি।
হাসপাতালের কর্মীদের অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের আশেপাশে ভারি বোমা হামলা চালানো হচ্ছে।
গাজার উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. ইউসুফ আবু আল-রিশ বর্তমানে আল-শিফা হাসপাতালে রয়েছেন। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, সব জেনারেটর বন্ধ এবং বিদ্যুতের সব ধরনের উৎস এখন হাসপাতালের বাইরে। হাসপাতালে ইনকিউবেটরে থাকা ৩৯ শিশু প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের আশেপাশে ভয়ংকর গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে কয়েক মিনিট আগে একটি মর্টার শেল পড়েছে। হাসপাতালের পুরো মেঝেতে রক্ত, যা পরিষ্কার করতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনে রেড ক্রিসেন্টের প্রধান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের গাজা থেকে উৎখাত করার জন্য সেখানকার হাসপাতালগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।
১৯৪৬ সালে আল শিফা হাসপাতালটি স্থাপিত হয়। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে হাসপাতালটি।