জিম্মি মুক্তির বিষয়ে হামাসের প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির মন্ত্রীসভা বলেছে, ৫০ জন জিম্মির বিনিময়ে অবরুদ্ধ গাজায় চারদিন যুদ্ধবিরতি দেয়া হবে।
আর, যুদ্ধবিরতি শেষ হলেই আবারও গাজায় হামলা শুরু হবে জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন কি যুদ্ধবিরতির মধ্যে হামাস যোদ্ধাদের গ্রেপ্তার করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
অবশেষে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির আতঙ্ক থেকে সাময়িক রেহাই পেতে চলেছে গাজাবাসী। এ যেন হারানো স্বজনের জন্য একদণ্ড মন খুলে কেঁদে নেয়ার সুযোগ।
বুধবার হামাসের আনা এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় ইসরাইলি মন্ত্রীসভা। এ চুক্তির আওতায় গত ৭ অক্টোবরের হামলায় হামাসের কাছে জিম্মি ৫০ জন নারী ও শিশুকে মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধবিরতি হবে চারদিন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতি ১০ জন অতিরিক্ত জিম্মি মুক্তির জন্য আরও একদিন করে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে। তবে এতে ফিলিস্তিনি জিম্মি মুক্তির বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।
অন্যদিকে হামাস এই প্রস্তাব পাসের পর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইসরাইলের জেলে বন্দী ১৫০জন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে ইসরাইল।
এরই মধ্যে, চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সময় জানিয়ে দেয়া হবে।
যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত এলেও আতঙ্ক কাটছে না ফিলিস্তিনিদের। পশ্চিম তীরের হেবরনের বাসিন্দারা ইসরাইলের কারাগারে বন্দী ছয় হাজার ফিলিস্তিনির মুক্তির দাবি জানান।
এদের অনেকেরই আশঙ্কা, এই চুক্তি ভঙ্গ করতে পারে ইসরাইল। তারা বলেন, ইসরাইল কোনদিনই কোন চুক্তি রক্ষা করেনি। আমাদের ভয়, এবারও তারা সেটা মানবে না।
ফিলিস্তিনিদের নিয়ে গিয়ে ইসরাইলি কারাগার পূর্ণ করে রাখা হয়েছে। তাদের কারাগার খালি করতেই হবে। ফিলিস্তিনিদের মুক্তির দাবি জানাই। এর আগে দুই দফায় চার জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস।
৭ অক্টোবর ইসরাইলে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা। হামলায় অন্তত ১ হাজার ২০০ নিহতের দাবি করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সেখান থেকে ২৪০ জনের মতো জিম্মিকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসে ফিলিস্তিনিরা। আর ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনি মৃতের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে।