গাজায় হামলার জেরে আক্রান্ত ইসরায়েলের অর্থনীতি। ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে ইসরায়েলের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। যা প্রত্যাশার চেয়ে দ্বিগুণ। দেশটিতে অনেক কারখানার উৎপাদন ও ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন বিনিয়োগও পাওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব ফেলেছে ইসরাইলের অর্থনীতিতে। নানামুখী সংকটের যাঁতাকলে পড়েছে দেশটি। গাজায় যুদ্ধ পরিচালনার ফলেই দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে দেশটির নাগরিকরাও।
ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, গত বছরের শেষ তিন মাসে মোট দেশীয় উৎপাদন বার্ষিক হিসেবে হ্রাস পেয়েছে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের ব্যাক্তিগত খরচ কমেছে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। গাজা যুদ্ধে অধিক ব্যয়ের ফলাফল নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে দেশটির নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। তারা তাদের জীবন যাপনের ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়েছে।
গত অক্টোবর থেকে ইসরাইলি সরকার প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার সংরক্ষিত সেনাকে বেতন দিয়ে যাচ্ছে। তাদের গাজায় মোতায়েন করা হয়েছে। গত নভেম্বরে ব্যাংক অব ইসরায়েল দেশটির অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে একটি মোটাদাগের হিসাব দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, যুদ্ধের কারণে অর্থনীতির ওপর প্রভাবের আর্থিক মূল্য হবে ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।
এদিকে ২০২৩-২৪ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দুই শতাংশে নামিয়ে এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা আগে ছিলো ২.৩ শতাংশ ও ২.৮ শতাংশ। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র পর্যায় শেষ হলে চলতি বছরে ইসরায়েলের ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার।
ইসরাইলি জিডিপির ১৪ শতাংশ আসে নির্মাণ খাত থেকে। যুদ্ধ শুরুর পর এ খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই অক্টোবর থেকে ইসরায়েলজুড়ে নির্মাণকাজ বন্ধ। দেশটির নির্মাণ খাতের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শ্রমিকই ফিলিস্তিনি। ইসরায়েল তাদের কাজের অনুমতি দেয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছে।