ইরানের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ইস্পাহান। গত বৃহস্পতিবার ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় এই শহরের কাছে পারমাণবিক স্থাপনার সুরক্ষায় নিয়োজিত রাডার ব্যবস্থায় হামলা চালায় ইসরাইল। এর আগেও ইসরাইলি হামলার শিকার হয়েছিল ইস্পাহান। ইরানের এই শহরটিই কেনো বারবার ইসরাইলের নিশানায় থাকে?
প্রাসাদ, মসজিদ আর মিনারের জন্য বিখ্যাত ইরানের ইস্পাহান শহর। আবার এই শহরটিই সামরিক শিল্পেরও একটি প্রধান কেন্দ্র। শহরটিতে ও তার আশেপাশের এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা রয়েছে। সাফাভি রাজবংশের শাসনামলে এ শহরটি পারস্য সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিলো।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় এই ইস্পাহান শহরের কাছে পারমাণবিক স্থাপনার সুরক্ষায় নিয়োজিত রাডার ব্যবস্থায় হামলা চালায় ইসরাইল। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতেও শহরটিতে ইরানি সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন একটি সামরিক কারখানায় কয়েকটি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছিলো।
যদিও ইরানি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করেন যে, ইস্পাহান প্রদেশের পরমাণু স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে। তবে বিবিসি ভেরিফাই দুটি স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছে যাতে দেখা গেছে ইস্পাহানের একটি বিমানঘাঁটিতে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কেন্দ্র নাতাঞ্জ পারমানবিক কেন্দ্রটিও রয়েছে এই শহরের কাছে ।
ইস্পাহানের নাম ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই ওই শহরে বৃহস্পতিবারের হামলাকে প্রতীকী হিসাবে দেখা হচ্ছে।
রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাজ্য ও নেটোর পারমাণবিক বাহিনীর সাবেক প্রধান হামিশ ডি ব্রেটন-গর্ডন বলেন, ইস্পাহানকে নিশানা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর আশপাশে অনেকগুলো সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান যেখানে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি তার খুব কাছেই হয়েছিল, তাই এটি খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ।
তবে এই প্রথম নয় এর আগেও সন্দেহভাজন ইসরাইলি হামলার শিকার হয়েছে ইস্পাহান। গত বছরের জানুয়ারিতে শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি গোলাবারুদের কারখানায় ড্রোন হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করে ইরান। চারটি প্রপেলারসহ একটি ছোট ড্রোন এর মাধ্যমে ওই হামলা চালানো হয়েছিলো।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের অন্যান্য অংশেও একই ধরনের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ওইসব হামলার কোনোটিতেই জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেনি ইসরাইল।
১৫৯৮ থেকে ১৭৩৬ সাল পর্যন্ত সাফাভি রাজবংশের শাসনামলে ইস্পাহান রাজধানী ছিলো। শাহ আব্বাস এটিকে রাজধানীতে পরিণত করেছিলেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে শহরটিতে সংস্কার করা হয় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহরগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের এলাকা নকশ-ই জাহান স্কয়ারের অবস্থান ইস্পাহান। ১৫৯৮ থেকে ১৬২৯ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ করা হয়। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাচীন স্কয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।