আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও স্পেন। বুধবার ডাবলিনে এক বক্তৃতায় আইরিশ প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির এ ঘোষণা দেন।
সাইমন হ্যারিস বলেছেন, ‘আজ আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্পেন ঘোষণা করছে যে আমরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছি, সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য আমরা প্রত্যেকে জাতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’ খবর স্কাই নিউজ’র।
‘আমি নিশ্চিত যে আগামী সপ্তাহগুলিতে এ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণে আরও দেশ আমাদের সাথে যোগ দেবে’ বলেও আশা প্রকাশ করেছেন হ্যারিস ।
আইরিশ সরকারের পক্ষে তিনি যুক্তি দেন, এ স্বীকৃতি একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে সমর্থন করে, যা এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির জন্য অপরিহার্য, যা অক্টোবর থেকে হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের আক্রমণের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
আইরিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের জন্য দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের একটি বিবৃতি, ইসরাইল, ফিলিস্তিন এবং তাদের জনগণের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য পথ।’
ডাবলিনে হ্যারিসের বক্তব্যের পরপরই স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে বলেছেন, উভয় দেশই ২৮ মে থেকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা স্পষ্ট যে নেতানিয়াহুর ফিলিস্তিনের জন্য শান্তির কোনো প্রকল্প নেই, যদিও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই বৈধ।
ফিলিস্তিনের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোয়ার বলেন, ‘স্বীকৃতি না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি থাকতে পারে না। সন্ত্রাস হামাস এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি দ্বারা সংঘটিত হয়েছে যারা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমর্থক নয়।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য আয়ারল্যান্ড, স্পেন, স্লোভেনিয়া এবং মাল্টা ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিলো। দেশগুলো মনে করে, এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির জন্য দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান অপরিহার্য।