পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ইরানের হাতিয়ার হরমুজ প্রণালি

হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালিটিকে বলা হয় ইরানের ‘তুরুপের তাস’। মূলত এর কৌশলগত অবস্থান এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর অপরিসীম প্রভাবের কারণেই এটি ইরানের একটি বড় ‘হাতিয়ার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ইরান প্রায়ই এই প্রণাণি বন্ধ করার হুমকি দেয়, যা পশ্চিমাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অয়েল চোকপয়েন্ট’ বা তেলের রুট। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজির  প্রায় ২০-২৫ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ইরাক এবং কাতারের মতো দেশগুলোর তেল রপ্তানির জন্য এই পথ ছাড়া তেমন কোনো কার্যকর বিকল্প নেই। ইরান যদি এটি বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় আকাশচুম্বী হতে পারে।

ছবি; সংগৃহীত
এই প্রণালীটি মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এবং জাহাজ চলাচলের লেনগুলো আরো সংকীর্ণ। প্রণালীটির উত্তর উপকূল ইরানের নিয়ন্ত্রণে।

ইরান এখানে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন এবং দ্রুতগামী নৌযান মোতায়েন করে রেখেছে। ইরান যদি সমুদ্রে মাইন বিছিয়ে দেয়, তবে তা পরিষ্কার করে জাহাজ চলাচলের উপযোগী করতে মার্কিন নৌবাহিনীর কয়েক সপ্তাহ বা মাস লেগে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হবে বিপর্যয়কর।

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই প্রণালির ওপর আগের মতো নির্ভরশীল না হলেও , বিশ্ব অর্থনীতি এর ওপর দাঁড়িয়ে। তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়বে এবং বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাবে, যা মার্কিন অর্থনীতিতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি তৈরি করতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও চীনের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো তাদের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশের জন্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। এই পথ বন্ধ হলে মিত্রদের চাপে যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে পিছু হটতে হতে পারে।

ইরান জানে যে তারা সরাসরি প্রথাগত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল নৌবহরকে হয়তো হারাতে পারবে না। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি নিজেই একটি বড় অস্ত্র। এটি ইরানের জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে কাজ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে জড়ানো থেকে বিরত রাখে।