প্রবল চাপের পরও খামেনির মনোবলে বিষ্মিত ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি এবং নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখেও ইরান কেন এখনো পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় আসছে না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মনোবল ও দৃঢ়তা নিয়ে রীতিমতো কৌতুহলী হয়ে উঠেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিটি।

প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ট্রাম্প সরাসরি 'নতিস্বীকার' শব্দটি ব্যবহার করতে না চাইলেও, তিনি বুঝতে পারছেন না কেন তেহরান এখনো আলোচনায় বসতে অনীহা দেখাচ্ছে।

ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টিভ উইটকফ বলেন, প্রেসিডেন্ট বুঝতে পারছেন না যে, এত বিশাল নৌ-শক্তি ও সামরিক চাপের মুখে থেকেও ইরান কেন নিজে থেকে এগিয়ে এসে বলছে না যে, আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না, তাই আমরা এই এই শর্ত মানতে রাজি।


উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সৈন্য সমাবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে যে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানবে।

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান যেন তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড’ উপাদানের খুব কাছাকাছি। উইটকফের মতে, ইরান সম্ভবত বোমা তৈরির উপাদান থেকে মাত্র এক সপ্তাহ দূরে রয়েছে, যা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

তেহরান অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তারা কিছু সীমাবদ্ধতা মানতে রাজি থাকলেও তার বিনিময়ে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার শর্ত দিয়েছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রক্সিকে সমর্থনের বিষয়টিকে তারা পারমাণবিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করতে নারাজ।

স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের নির্দেশনায় তিনি ইরানের নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির সাথে বৈঠক করেছেন। রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শাহর পুত্র। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পাহলভি বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।


এর আগে পাহলভি দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ইরানিদের প্রাণ বাঁচাতে পারে এবং তিনি ওয়াশিংটনকে তেহরানের শাসকদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের সামরিক হুমকি এবং অন্যদিকে ইরানের অনমনীয় অবস্থান, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।