পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চূড়ান্ত আলোচনার ঠিক দুই দিন আগে দেশটির ইসফাহান প্রদেশে এক ভয়াবহ সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
ইরানের আধাসামরিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত কপ্টারটি ছিল ইরান সেনাবাহিনীর অ্যাভিয়েশন ইউনিটের। এটি ইসফাহানের খোমেনি শাহর কাউন্টির দর্চেহ শহরের একটি সবজি ও ফলের বাজারের ওপর আছড়ে পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারের পাইলট ও কো-পাইলটের পাশাপাশি বাজারের দুজন বিক্রেতাও প্রাণ হারিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহেই হামাদান প্রদেশে ইরানের বিমান বাহিনীর একটি মার্কিন নির্মিত এফ-৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে একজন পাইলট নিহত হন। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে কেনা পুরনো বিমান এবং খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে ইরানে এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান ও সেদেশের জনগণ ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী সোজা জানিয়েছেন, পরমাণু শক্তি আমাদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে। এদিকে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) লেবাননে হিজবুল্লাহর কার্যক্রমের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ করেছে।
হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর 'সীমিত' হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। যদিও মার্কিন জেনারেল ড্যানিয়েল কেইন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি একাই নেবেন।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফের পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হবে।