খামেনি নিরাপদেই আছেন, নিজেই জানালেন ট্রাম্প!

ইরানের রাজধানী তেহরানে শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রবল কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতাকে নিয়ে ইরান সরকার ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে পাওয়া তথ্য এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি জানেন খামেনি কোথায় আছে। তবে এখনই হত্যা করা হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হামলার পরপরই রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরানের একটি দাপ্তরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই। তাকে একটি অজ্ঞাত ও অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির মতে, তেহরানের উত্তরে শেমিরান এলাকায় অবস্থিত খামেনির বাসভবন এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের কাছে অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি ইরান সরকার।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ইসনা’র ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সংলগ্ন পাস্তুর স্ট্রিট এবং উত্তরের সৈয়দ খন্দান এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে।

ছবি: সংগৃহীত
১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন খামেনি। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইরানের সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং সরকারের সকল শাখার চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে দেশ পরিচালনা করছেন। তার শাসনামলে ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। তিনি সর্বদা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের এক নম্বর শত্রু হিসেবে অভিহিত করে এসেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং শনিবারের হামলার ধরন থেকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের লক্ষ্য কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা। ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, আমরা জানি এই তথাকথিত ‘সর্বোচ্চ নেতা’ কোথায় লুকিয়ে আছেন। তিনি আমাদের জন্য একটি সহজ লক্ষ্যবস্তু, তবে আপাতত তিনি সেখানে নিরাপদ আছেন, আমরা তাকে সরিয়ে দিচ্ছি না, অন্তত এই মুহূর্তে নয়।


তবে ট্রাম্প ইরানি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকারের পতন ঘটিয়ে শাসনভার নিজেদের হাতে তুলে নিতে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধকালীন অভিযান শুরু করেছে। তিনি বলেন, আমরা এই চরম উগ্রবাদী একনায়কতন্ত্রকে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে দেব না। আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেব।

ছবি: সৃগৃহীত
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ গত জুন মাসেই মন্তব্য করেছিলেন, খামেনির মতো একজন একনায়ক বেঁচে থাকতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব।

হামলার কারণ হিসেবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে বলে দাবি করা হলেও, খামেনি দীর্ঘকাল ধরে বলে আসছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শুধু অসামরিক কাজের জন্য। এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বা জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থাও ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পায়নি। তা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই অজুহাতেই নতুন করে এই বিধ্বংসী আক্রমণ শুরু করেছে।

মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযানের প্রস্তুতি গত কয়েক মাস ধরে নেওয়া হচ্ছিল। যদিও ইরানের সাথে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল, তবুও আলোচনার সমান্তরালে এই হামলার সময় কয়েক সপ্তাহ আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। মূলত ইরানকে পরমাণু ইস্যুতে চুক্তিতে বাধ্য করতেই মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।