ইসরাইলি মিডিয়াতে খামেনির প্রাণহানির গুঞ্জন!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন বারুদ আর ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ভাগ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল ১২', নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, শনিবার ভোরের দিকে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা সম্ভবত প্রাণ হারিয়েছেন।

ইসরাইলি চ্যানেলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির মৃত্যু হয়েছে এমন জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর কিছুক্ষণ আগেই তারা জানিয়েছিল, খামেনি অন্তত গুরুতর আহত হয়েছেন। এই মূল্যায়ন শুধু স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত খামেনির বাসভবনের ছবির ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে বলে দাবি করছে ইসরাইল।


যদিও এখন পর্যন্ত ইরান বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে এই খবরের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিয়তা পাওয়া যায়নি।

টাইমস অব ইসরাইলসহ বিভিন্ন দেশটির বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি শিগগিরই জাতির উদ্দেশে একটি ভাষণ দেবেন। তবে ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, যদি কোনো ভাষণ প্রচার করা হয়ও, তবে তা বর্তমান পরিস্থিতির আগে ধারণ করা বা ‘প্রি-রেকর্ডকৃত’ হতে পারে। এই সম্ভাবনা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, শনিবারের এই নজিরবিহীন হামলায় ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারদের ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে চালানো সুনির্দিষ্ট হামলাগুলো ইরানের শাসনকাঠামোকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের অভিভাবক হিসেবে থাকা খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ ইরানিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদি ইসরাইলের এই দাবি সত্য হয়, তবে তা শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় মোড় হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে বিশ্ববাসী তেহরানের দিক থেকে কোনো দাপ্তরিক বার্তার জন্য রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে।