ছয় মাস ধরে ইরানে হামলার ছক, আগে থেকেই চূড়ান্ত দিনক্ষণ

কূটনৈতিক আলোচনার টেবিল থেকে যুদ্ধের ময়দান, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যপট। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে উঠেছে ইরান। যখন জেনেভায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিলো, ঠিক তখনই এই অতর্কিত আক্রমণ পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

যুদ্ধের সবচেয়ে করুণ দৃশ্যটি ফুটে উঠেছে দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে। ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় একটি স্কুলের ৫১ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। শিশুদের কলকাকলিতে মুখর থাকার কথা ছিল যে আঙিনা, সেখানে এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ আর স্বজনদের আর্তনাদ। এই অবুঝ শিশুদের মৃত্যু যুদ্ধের ভয়াবহতা ও নিষ্ঠুরতাকে আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করল।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং পরমাণু অস্ত্রের হুমকি নির্মূল করাই এই বিশাল অভিযানের লক্ষ্য। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে মাসের পর মাস ধরে। এমনকি হামলার দিনক্ষণ আগে থেকেই ঠিক করা ছিলো।

ইরানকে চমকে দিতেই ভোরের আলো ফোটার পর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রশাসন গত জানুয়ারি থেকে এই অঞ্চলে রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’-সহ বিশাল নৌবহর ও ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।


আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরাইল অভিমুখে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক এশীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বারবার ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল। হামলার কিছুক্ষণ আগেও ট্রাম্প বলেন, ইরান যেভাবে আলোচনা করছে তাতে আমি মোটেই খুশি নই। কূটনৈতিক পথে সমাধান না আসায় শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। ইসরাইলের বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই অভিযানের প্রাথমিক পর্যায় অন্তত চার দিন স্থায়ী হতে পারে।

 
মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ এখন এক চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। একদিকে যুদ্ধের দামামা, অন্যদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক, সব মিলিয়ে এক মানবিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ব। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শেষ কোথায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।