আঞ্চলিক তেল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু নয়: ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে ইরান এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ইরানের বার্তা সংস্থা- তাসনিম নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির এক উচ্চপদস্থ সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক দেশগুলোর তেল স্থাপনাগুলো ইরানের হামলার তালিকায় ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।

ইরানি সূত্রের এই বক্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন সোমবার সৌদি আরবের পারস্য উপসাগর তীরবর্তী পূর্ব উপকূলের অন্যতম প্রধান তেল শোধনাগার এবং রপ্তানি কেন্দ্র রাস তনুরাতে একটি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন হামলার ফলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।


যেহেতু রাস তনুরা সৌদি আরবের জ্বালানি অর্থনীতির একটি প্রধান স্তম্ভ, তাই সেখানে হামলার পর পুরো অঞ্চলে তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক আতঙ্ক তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটেই ইরান তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানাল, প্রতিবেশী দেশগুলোর নিজস্ব সম্পদে আঘাত হানা তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং তাদের মূল লক্ষ্য এই অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি সামরিক ও কৌশলগত সম্পদ।

সামরিক সূত্রটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার কোনো পরিকল্পনা রাখেনি। তবে একই সাথে তারা একটি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সূত্রটির মতে, এই অঞ্চলের যে কোনো স্থানে অবস্থিত মার্কিন এবং ইসরাইলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব স্থাপনা ইরানের জন্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সেগুলোতে আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।

 
ইরানের এই বিবৃতিটি মূলত প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক কমানোর একটি কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর মাধ্যমে তারা আবারও এটি নিশ্চিত করল যে, এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি উপস্থিতিকে তারা কোনোভাবেই ছাড় দেবে না।