মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের আঁচ আবারও সরাসরি গায়ে লাগল দুবাইয়ে বসবাসরত প্রবাসী শ্রমিকদের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের আল বারশা এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। রোববার আরব আমিরাতে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস এই দুঃখজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিহত প্রবাসীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পাকিস্তান দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, এই শোকের মুহূর্তে আমরা নিহতের পরিবারের ব্যথায় সমব্যাথী এবং তাদের জন্য আন্তরিক প্রার্থনা করছি। তবে নিরাপত্তার খাতিরে ওই ব্যক্তির নাম বা বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান ও মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, গত কয়েক দিনের হামলায় নিহতদের একটি বড় অংশই দক্ষিণ এশীয় (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান) নাগরিক।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সমৃদ্ধির প্রধান কারিগর হলেন দক্ষিণ এশিয়ার লাখ লাখ শ্রমিক। নির্মাণ শিল্প থেকে শুরু করে সেবা খাত- সবখানেই তাদের পদচারণা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাব অনুযায়ী, আরব দেশগুলোতে বর্তমানে ২ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি অভিবাসী শ্রমিক কর্মরত আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শ্রমিকরাই এখন যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিকারে পরিণত হচ্ছেন। কারণ, তাদের বেশিরভাগ খোলা আকাশের নিচে নির্মাণাধীন ভবন বা ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প এলাকায় কাজ করতে হয়। স্বল্প বেতনের শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থা অনেক সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে ভাষা ও তথ্যগত সীমাবদ্ধতার কারণে জরুরি সাইরেন বা সতর্কতা সংকেত বুঝতে তাদের দেরি হয়ে যায়।
সংঘাতের পরিধি যত বাড়ছে, ততই দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দুবাইয়ের মতো ব্যস্ততম ও নিরাপদ শহরে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ এখন আর নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে এটি শুধু স্থানীয় অর্থনীতি নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর রেমিট্যান্স প্রবাহ ও জনশক্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।