মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের দশম দিনে এসে ইরান ও ইসরাইল-আমেরিকা জোটের মধ্যকার বাগযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। রোববার (৮ মার্চ) ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বর্তমান তীব্রতায় যুদ্ধ চললেও তারা অন্তত আরও ছয় মাস লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম।
একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, এ অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটি সংশ্লিষ্ট দুইশ’র বেশি লক্ষ্যবস্তুতে তারা সফল হামলা চালিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে ‘এপিক ফিউরি’ (যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নাম) এবং ‘লায়ন্স রোর’ (ইসরাইলের দেয়া নাম) নামক অপারেশন শুরু করে।
এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইসহ শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কিছু নেতা নিহত হন। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে।
আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ কমপক্ষে ছয় মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরাইল তার ‘সর্বশক্তি’ দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। নেতানিয়াহুর দাবি, তেহরানের আকাশের নিয়ন্ত্রণ এখন প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই সংকটকালীন সময়ে কিছুটা সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান কখনোই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ’-এর দাবি মেনে নেবে না। তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আক্রান্ত না হলে ইরান তার প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু করবে না।
কিন্তু প্রেসিডেন্টের এই নমনীয় বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের কট্টরপন্থী বিচারবিভাগীয় প্রধান গোলাম হোসেন মহসেনি এজেয়ি সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনান। অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের এই প্রভাবশালী সদস্য বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমি শত্রুরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করছে। যারা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে শত্রুকে সহায়তা দিচ্ছে, তাদের ওপর এই ভয়াবহ হামলা চলতেই থাকবে।
বাস্তবেও প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ইরাকে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট কূটনীতির কথা বলছেন, অন্যদিকে সামরিক ও বিচার বিভাগীয় প্রধানরা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই ছয় মাস এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, এনডিটিভি