হামলা থামাতে তেহরানের প্রতি রিয়াদের চরম হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এবার সুর পরিবর্তন করলো সৌদি আরব। ইরানের অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রিয়াদ তেহরানকে সোজা জানিয়ে দিয়েছে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও তাদের জ্বালানি খাতে আঘাত হানা হলে সৌদি আরবও পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হবে। রয়টার্সকে দেওয়া চারজন উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে এক ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রিয়াদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। সূত্রমতে, সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা এখনো শান্তি আলোচনা ও উত্তেজনা হ্রাসের পক্ষে।

এখন পর্যন্ত সৌদি বা অন্য কোনো উপসাগরীয় দেশ তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানকে আক্রমণ করার অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়নি। তবে, যদি ইরানের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে সৌদি আরব তাদের সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ মার্কিন বাহিনীর হাতে ছেড়ে দিতে এবং সেখান থেকে ইরানে সরাসরি অভিযান চালানোর অনুমতি দিতে বাধ্য হবে।

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের এই কড়া বার্তার পর শনিবার এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই। তিনি আরও জানান, ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ প্রতিবেশীদের ওপর হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদি না ওসব দেশ থেকে ইরানের ওপর কোনো আক্রমণ আসে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ক্ষমা প্রার্থনাকে দেখছেন পরাজয় হিসেবে। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিরলস হামলার মুখে ইরান এখন তার প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চাইছে এবং আত্মসমর্পণ করছে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান শান্তির কথা বললেও ইরানের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরাইলি ঘাঁটি এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানগুলো ইরানের ‘প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবেই থাকবে।

সামরিক কমান্ডারদের একটি অংশ এখনো মনে করছে, উপসাগরীয় দেশগুলো গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে, তাই হামলা অব্যাহত রাখা উচিত।

ছবি: সংগৃহীত
গত কয়েক বছরে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, গত এক সপ্তাহের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিতে তা কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনও গত কয়েক দিনে ইরানের ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে।

তেহরান দাবি করছে, তারা কোনো দেশকে নয়, বরং সেসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। অন্যদিকে, রিয়াদের দাবি- বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হওয়া মানেই সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত, যার জবাব তারা দিতে প্রস্তুত।