ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়ের সূচনা হলো। নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আনুগত্য প্রকাশ করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। যুদ্ধকালীন এই সংকটময় মুহূর্তে নেতৃত্বের এই পরিবর্তনকে ইরানের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনেইকে তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণার পরপরই ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখাগুলো আলাদা আলাদা বিবৃতিতে তাদের সমর্থন জানিয়েছে। আনুগত্য প্রকাশকারী প্রধান সংস্থাগুলো হলো- ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা কাউন্সিল, আইআরজিসি কুদস ফোর্স এবং অন্যান্য সব নিয়মিত ও বিশেষ সামরিক বাহিনী
বিবৃতিগুলোতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, তারা নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আদর্শ ও মূল্যবোধ রক্ষায় এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় দীর্ঘ ৩৭ বছরের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেই শাহাদাতবরণ করেন। এই চরম উত্তেজনাকর এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) বিন্দুমাত্র সময়ক্ষেপণ করেনি।
পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শত্রুর সরাসরি হুমকি সত্ত্বেও তারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে অটল ছিল। সূক্ষ্ম ও ব্যাপক পর্যালোচনার পর ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে নতুন নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। রোববার বৈঠকে সদস্যদের বিপুল ভোটে মুজতবা খামেনেইকে তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়।
ইরানের শাসন ব্যবস্থায় এই বিশেষজ্ঞ পরিষদ অত্যন্ত প্রভাবশালী। ৮ বছরের মেয়াদে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এই সদস্যরা সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন এবং তার কার্যক্রম তদারকি করেন।
ইরানি সামরিক নেতৃত্বের এই আনুগত্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নবাদী’ শাসনের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী জবাব। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই ক্রান্তিলগ্নে নতুন নেতৃত্বের পেছনে পুরো বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ থাকা জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।
ইরানের রাজপথে যখন নতুন নেতার প্রতি আনুগত্যের সমাবেশ চলছে, তখন সশস্ত্র বাহিনীর এই সমর্থন দেশটিকে কঠিন সামরিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন শক্তি জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ