ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ বন্ধের ধৃষ্টতা দেখায়, তবে তেহরানের ওপর ‘২০ গুণ বেশি’ বিধ্বংসী হামলা চালানোর যে হুমকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা শুধু কথার কথা নয় বলে মঙ্গলবার তা স্পষ্ট করে দিয়েছে পেন্টাগন।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন এবং যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, কৌশলগত এই জলপথ সচল রাখতে প্রয়োজনে তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে সামরিক প্রহরায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বা যুদ্ধমন্ত্রীর কাছ থেকে নির্দেশ পাওয়া মাত্রই হরমুজ প্রণালীতে তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেওয়ার জন্য একাধিক সামরিক বিকল্প বা ‘রেঞ্জ অফ অপশন’ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই মিশনের জন্য কত বড় নৌবহর প্রয়োজন এবং কমান্ড সেন্টার কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ঝুঁকি কতটা এবং তা কীভাবে নস্যাৎ করা হবে, পেন্টাগন এখন সেই ছক কষছে।
সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ সরাসরি ট্রাম্পের গত রাতের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টের উদ্ধৃতি দেন। ট্রাম্প সেখানে লিখেছিলেন, তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হলে ইরানের ওপর ‘মৃত্যু, আগুন আর ধ্বংসের বৃষ্টি’ নেমে আসবে। হেগসেথ বেশ ঝাঁঝালো কণ্ঠে একই ধরনের কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, আপনারা প্রেসিডেন্টের পোস্ট পড়েছেন। তিনি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। আমাদের এমন সব সামরিক সক্ষমতা আছে যা পৃথিবীর আর কোনো দেশের নেই। বিশ্বকে বুঝতে হবে, আমরা এখানে ঠিক কী অর্জন করতে চাই তা নিয়ে আমাদের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট।
তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন প্রশাসন তাদের জ্বালানি অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করছে যাতে তেলের বাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয়।
পেন্টাগনের এই অবস্থান প্রমাণ করে, ইরান যদি তাদের হুমকি অনুযায়ী ‘এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে না দেয়ার’ পথে হাঁটে, তবে আমেরিকা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ নৌ-যুদ্ধে জড়াতে দ্বিধা করবে না। হেগসেথের মতে, এই অভিযানটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি অহেতুক ছড়িয়ে না পড়ে, কিন্তু লক্ষ্য অর্জনে কোনো আপস করা হবে না।
ট্রাম্পের ‘২০ গুণ বেশি শক্তিতে আঘাত’ করার হুমকির পেছনে এখন পেন্টাগনের পেশাদার রণকৌশল যুক্ত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান কি সত্যিই তেলের বাজারকে জিম্মি করার সাহস দেখায়, নাকি মার্কিন ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি’র ভয়ে পিছু হটে।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ