মোজতবাকে নির্মূলে ইসরাইলি অভিযানে সমর্থন দেবেন ট্রাম্প!

ইরানের মসনদে বসার কয়েক দিনের মাথায় নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির ওপর ঘনিয়ে এলো এক বিপদের কালো মেঘ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন শর্ত মেনে পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগ না করলে, মোজতবা খামেনি শান্তিতে থাকতে পারবেন না। এমনকি প্রয়োজনে তাঁকে হত্যার অভিযানেও সমর্থন দেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন মোজতবা খামেনির সামনে কয়েকটি কঠিন শর্ত রেখেছে। যার মধ্যে প্রধান হলো ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা। ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট বলেছেন, ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন।


ট্রাম্পের ভাষায়, আমি মনে করি না সে (মোজতবা খামেনি) শান্তিতে বেঁচে থাকতে পারবে। আমরা চাই না ইরানের নেতৃত্বে এমন কেউ থাকুক যে সন্ত্রাসবাদ ছড়াবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মোজতবা যদি সহযোগিতা না করেন, তবে তাঁর বাবার মতোই (যিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় নিহত হন) তাঁকেও নির্মূল করার অভিযানে ইসরাইলি বাহিনীকে পূর্ণ সমর্থন দেবে হোয়াইট হাউস।

মোজতবার ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে স্বয়ং ইরানের ভেতরেই এক রোমাঞ্চকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের দাবি অনুযায়ী, প্রয়াত আলী খামেনি তাঁর উইলে বা শেষ ইচ্ছায় স্পষ্টভাবে লিখে গিয়েছিলেন, তাঁর মেজ ছেলে মোজতবা যেন তাঁর উত্তরসূরি না হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, খামেনি নিজেই মোজতবার শাসন করার যোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।

বাবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইরানের শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী রেভোলিউশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) আলী মোজতবাকে ক্ষমতার শীর্ষে বসিয়ে দিয়েছে। মূলত নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতেই তারা মোজতবাকে ‘পুতুল’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি কোনোদিন কোনো সরকারি পদে ছিলেন না। তবুও তাঁকে বলা হতো পর্দার আড়ালের আসল শক্তি। ২০০০-এর দশকের মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় তাঁকে হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।


ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আগেই সতর্ক করেছে, তেহরানের সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড যে নেতাই চালিয়ে যাবেন, তিনিই হবেন তাদের ‘প্রধান লক্ষ্যবস্তু’। ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান এবং ইসরাইলের মারমুখী মেজাজ, সব মিলিয়ে মোজতবার রাজ্যাভিষেক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

বাবার মৃত্যুর ক্ষত না শুকাতেই মোজতবাকে এখন একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ আর অন্যদিকে বাবার উইলের নৈতিক সংকটের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ট্রাম্পের এই ‘চরমপত্র’ কি মোজতবাকে মাথা নত করতে বাধ্য করবে, না কি মধ্যপ্রাচ্য আরও একটি ভয়াবহ গুপ্তহত্যার সাক্ষী হবে?

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি