যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলার মধ্যেই শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে পালিত হলো বার্ষিক 'আল-কুদস দিবস'। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদে হাজার হাজার ইরানি রাজপথে নেমে আসেন। তবে, এই শান্তিপূর্ণ মিছিলেও হানা দিয়েছে মৃত্যু। মিছিলে একাধিক বিস্ফোরণে অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর আল জাজিরা।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের ফেরদৌসী স্কয়ারের কাছে আল-কুদস দিবসের মিছিল চলার সময় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এই বিস্ফোরণে এক নারী নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি বাহিনী আগেই ওই এলাকা থেকে মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, যার কিছুক্ষণ পরেই হামলা ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার ফলে ছিটকে আসা গোলার আঘাতে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আকাশচুম্বী। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী অন্তত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের সামরিক অভিযান কমানোর কোনো লক্ষণ দেখায়নি।
আল-কুদস দিবসের সমাবেশ চলার মাঝেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরাইলে বড় ধরনের ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘোষণা দেয়। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা লক্ষ্যবস্তুগুলোতে প্রচুর সংখ্যক নির্ভুল লক্ষ্যভেদী এবং সলিড-ফুয়েল চালিত ‘খায়বার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মূলত মার্কিন-জায়নিস্ট শত্রু ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
তেহরানের মিছিলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আগেই জনগণকে রেকর্ড সংখ্যায় রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জনগণের এই উপস্থিতিই ইরানের শত্রুদের হতাশ করবে এবং অন্যায়ের দেয়াল ভেঙে ফেলার শক্তি জোগাবে।
একজন নারী বিক্ষোভকারী প্রত্যয়ের সাথে বলেন, তারা মনে করে আমাদের ওপর বোমা ফেলে আমাদের ভয় দেখানো যাবে। কিন্তু না, আমরা আমাদের দেশের পাশেই আছি।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইর শপথ অনুযায়ী, দেশটি যে নতি স্বীকার করবে না, আল-কুদস দিবসের এই গণমিছিল তারই চূড়ান্ত প্রমাণ। যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে তেহরানের রাজপথ এখন একই সাথে শোক এবং প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।