ইরানে কোন ধরনের জোরালো যুক্তি ছাড়াই সামরিক আগ্রাসনের আজুহাত দাঁড়া করাতে স্বয়ং আমেরিকাই আবারও নাইন ইলেভেনর মতো বড় ধরনের সন্ত্রাসি ঘটনা ঘটাতে পারে, এমন ধরনের গুজব ও গুঞ্জনের বিষয় বেশ কয়েক দির ধরেই শোনা যাচ্ছিলো।
এবার ইরান নিজেই গোটা বিশ্বকে এনিয়ে সতর্ক করে দিলো। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি একটি সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা চলছে।
লারিজানি সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে লেখেন, আমি শুনেছি যে এপস্টাইন নেটওয়ার্কের অবশিষ্ট সদস্যরা নাইন-ইলেভেনের মতো একটি ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় ইরানের ওপর চাপানোর ষড়যন্ত্র করেছে। ইরান নীতিগতভাবে এমন সন্ত্রাসের বিরোধী এবং মার্কিন জনগণের সাথে আমাদের কোনো যুদ্ধ নেই।
লারিজানির এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। গত মাসে ইরানজুড়ে আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর এই সংঘাত চরম রূপ নেয়। ওই হামলায় ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিস্তৃত যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
এর জবাবে ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দু’হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইরানি নাগরিক।
পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানজুড়ে ১৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে যে, পেন্টাগন এই অঞ্চলে প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনাসহ উভচর যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ত্রিপোলি' মোতায়েন করেছে।
নাইন-ইলেভেন হামলা: ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। আল-কায়েদার সাথে সম্পৃক্ত ১৯ জন অপহরণকারী যুক্তরাষ্ট্রের চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করলে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন।
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১১ এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৫- এই দুটি বিমান ১৭ মিনিটের ব্যবধানে নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ারে আছড়ে পড়ে। এর ফলে টাওয়ার দুটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং মানুষ ওপরের তলাগুলোতে আটকা পড়ে। দুই ঘণ্টার মধ্যে উভয় টাওয়ার ধসে পড়ে এবং পুরো শহর ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
তৃতীয় একটি বিমান, আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৭৭, ওয়াশিংটন ডিসির কাছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত হানে।
চতুর্থ বিমানটি ছিল ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৯৩। যাত্রীরা অপহরণকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হয়, অপহরণকারীদের লক্ষ্য ছিল মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে আঘাত হানা।