গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ১৭তম দিনে এসে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি ও নতুন রণকৌশলের তথ্য প্রকাশ করেছে। ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। নিহত হয়েছেন আরও ১২ জন সেনা সদস্য।
সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন যে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০০ মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আহতদের বেশিরভাগেরই আঘাত সামান্য এবং ইতোমধ্যে ১৮০ জন সেনা পুনরায় দায়িত্বে ফিরেছেন। বর্তমানে ১০ জন সেনা সদস্য গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি প্রত্যাখ্যান: ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্প্রতি দাবি করেছিল, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। সেন্টকম সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানায়, ইরানের ভেতরে বিমান হামলার সময় মার্কিন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং মেরিন কর্পসের কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; বরং তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।
খাগ দ্বীপে প্রচণ্ড আঘাত ও ট্রাম্পের সতর্কতা: গত শুক্রবার রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপে’ ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে অন্তত ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আপাতত কৌশলগত কারণে ইরানের মূল তেল অবকাঠামো বা পাইপলাইনগুলো অক্ষত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইরানকে ‘কাগজের বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী যে কোনো সময় চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা ও নতুন নৌবহর: ইরানি ড্রোন, মাইন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চের মধ্যে মাত্র ১৫টি মালবাহী জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে।
এই অচলাবস্থা কাটাতে জাপান থেকে ৫,০০০ নৌসেনা ও মেরিন নিয়ে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে। জাহাজটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের তেল অবকাঠামোতে সরাসরি আঘাত না করে দেশটির সামরিক শক্তিকে দুর্বল করার নীতি গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী সচল রাখা এখন ওয়াশিংটনের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ