আমেরিকা-ইরান আলোচনায় নাটকীয় মোড়ের সম্ভাবনা

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য আলোচনায় একটি বড় ধরনের ‘ব্রেকথ্রু’ বা নাটকীয় মোড় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ‘নিশ্চয়তা’ ছাড়া তেহরান এখনো প্রস্তাবিত আলোচনায় যোগ দিতে দ্বিধাগ্রস্ত বলে বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর সব পক্ষকে, বিশেষ করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু গ্যারান্টি না পাওয়া পর্যন্ত ইরান এখনো আলোচনায় বসার বিষয়ে অনাগ্রহী।

বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

সূত্রমতে, তেহরান এখনো তাদের দাবিতে অনড়। তারা মূলত তিন বিষয়ে গ্যারান্টি চাইছে: ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে না, ইরানের মিসাইল প্রোগ্রাম আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘সার্বিক সমঝোতা’র লক্ষ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অর্থবহ ও চূড়ান্ত আলোচনার আয়োজন করতে ইসলামাবাদ পুরোপুরি প্রস্তুত।

এমনকি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনির গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেছেন। পাকিস্তান এই দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সম্ভাব্য সম্মেলনের প্রস্তাবও দিয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসি বুধবার ইতালীয় দৈনিক কোরিয়ারে ডেলা সেরা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই সপ্তাহের শেষদিকে ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

তাঁর মতে, এবারের আলোচনার পরিধি হবে অনেক বিস্তৃত- যেখানে মিসাইল কর্মসূচি, ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ীসহ ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ডজনখানেক আহত হয়েছেন, যা বিশ্ববাজার এবং বিমান চলাচলেও চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।