চুক্তি না করলে পরিণতি ভালো হবে না, ইরানকে ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ওয়াশিংটনের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে এই প্রস্তাব নিয়ে ‘সিরিয়াস’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যদিকে, ইরান আমেরিকার সাথে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে পাঁচটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানি প্রতিনিধিদের ‘অদ্ভুত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, সামরিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পর ইরান চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ করছে, অথচ জনসমক্ষে তারা বলছে যে তারা শুধু প্রস্তাবটি ‘পর্যালোচনা’ করছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খুব দ্রুত তারা গুরুত্ব না দিলে, অনেক দেরি হয়ে যাবে। আর, একবার সেই সময় পার হয়ে গেলে ফিরে আসার কোনো পথ থাকবে না এবং পরিস্থিতি মোটেও ভালো হবে না।

X
ওয়াশিংটনের ১৫ দফার প্রস্তাব:
পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার পাঠানো এই ১৫-দফার প্রস্তাবে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে ইরানের বাইরে জ্বালানি সুবিধা সম্পন্ন বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ধুঁকতে থাকা ইরানি অর্থনীতিতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।


ইরানের অবস্থান ও প্রত্যাখ্যান:
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আসা প্রস্তাবগুলো তারা পর্যালোচনা করছেন, তবে এর অর্থ আমেরিকার সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক বা সরাসরি আলোচনা নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আপাতত ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার কোনো অভিপ্রায় আমাদের নেই। আরাগচি আরও দাবি করেন, আমেরিকা তাদের যুদ্ধকালীন লক্ষ্য, যেমন দ্রুত বিজয় এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের পাল্টা পাঁচ শর্ত: আমেরিকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর ইরান যুদ্ধ বন্ধে নিজস্ব পাঁচটি প্রধান শর্ত পেশ করেছে-

১. ইরানের বিরুদ্ধে সকল ধরনের ‘আগ্রাসন’ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

২. ভবিষ্যতে পুনরায় সংঘাত শুরু হবে না, এমন গ্যারান্টি দিতে হবে।

৩. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ ও অর্থ প্রদান করতে হবে।

৪. ইরানের মিত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধ করতে হবে।

৫. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিতে হবে।

বর্তমানে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এই বার্তা আদান-প্রদান চললেও, দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।