স্থলযুদ্ধে আমেরিকাকে ‘পঙ্গু’ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের মাটিতে আমেরিকা বা ইসরাইলি বাহিনী কোনো ধরনের স্থল অভিযান শুরু করলে তাদের ‘পঙ্গু’ করে দেয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। বৃহস্পতিবার ইরানের সীমান্ত এলাকা দেখতে গিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর গ্রাউন্ড ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী জাহানশাহী এই মন্তব্য করেন।

বিগত কয়েক দিন ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর চাউর হয়েছে, ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য করতে আমেরিকা ও ইসরাইলি জোট ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনা করছে।

ইরানি সেনাবাহিনীর স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী জাহানশাহী ছবি: সংগৃহীত
এই প্রেক্ষাপটে জেনারেল জাহানশাহী সতর্ক করে বলেন, ইরানি ভূখণ্ডে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ শত্রুদের জন্য হবে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ব্যয়বহুল। আমাদের সেনারা সম্মুখ সমরে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং তারা শত্রুকে অকেজো বা পঙ্গু করে দিতে সক্ষম। তিনি আরও জানান, ইরানের প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড এখন কড়া নজরদারিতে রয়েছে এবং যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।

একই দিনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে মোতায়েন করা আইআরজিসি গ্রাউন্ড ফোর্সের ইউনিট পরিদর্শন করেন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি।

আইআরজিসির স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইল যদি কোনো হঠকারী পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হবে। আমাদের শক্তি কোনো জাগতিক শক্তির ওপর নয়, বরং খোদায়ী শক্তির ওপর নির্ভরশীল। তিনি জানান, খুজেস্তানে মোতায়েন করা ইউনিটগুলোর মনোবল এখন তুঙ্গে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর চলমান বিমান হামলা যদি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে হোয়াইট হাউসকে ‘স্থল অভিযানের’ বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা। পেন্টাগন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো এবং মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করতে বিশেষ বাহিনী বা হেলিকপ্টার যোগে অতর্কিত হামলার পরিকল্পনা তাদের টেবিলে রয়েছে, যদিও তারা একে ‘শেষ উপায়’ হিসেবে দেখছেন।

খাতাম আল আনবিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির মুখে ইরান দেশজুড়ে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালীর কাছে দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আইআরজিসি বর্তমানে তাদের মাটির নিচে অবস্থিত ‘মিসাইল সিটি’, মোবাইল রকেট লঞ্চার এবং ড্রোন ইউনিটগুলোকে উচ্চ সতর্কতায় রেখেছে, যা দেশের ভেতরে ও বাইরে শত্রু অবস্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং প্রতিদিন মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি ও ইরনা