বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা, রাশিয়ার কড়া হুশিয়ারী

বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভিয়েনায় নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের যে কোনো উস্কানিমূলক হামলার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

শনিবার এক সাক্ষাৎকারে উলিয়ানভ জানান, রাশিয়া ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র এবং এর আশপাশের অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত হওয়া হামলায় পারমাণবিক কেন্দ্রের মূল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, তিনি সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক স্থাপনার সামান্যতম ক্ষতিও শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।


রুশ দূত আরও উল্লেখ করেন, এই হামলার বিষয়ে মস্কো প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাথে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রথম হামলার পরপরই মস্কো সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে এই ঘটনার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রোসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) হামলার নিন্দা জানান। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা হামলার পরও গ্রোসি পুনরায় নিন্দা প্রকাশ করেন এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক প্রটোকল মেনে চলার আহ্বান জানান।

এদিকে, ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা (এইওআই) শুক্রবার নিশ্চিত করেছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এটি ছিল উক্ত স্থাপনায় তৃতীয় দফা হামলা। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রজেক্টাইলটি কেন্দ্রের চত্বরে আঘাত করলেও এতে কোনো মানবিক, আর্থিক বা কারিগরি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কেন্দ্রটি বর্তমানে পূর্ণ সচল রয়েছে। তবে তারা সতর্ক করেছে যে, বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকায় এখানে যেকোনো দুর্ঘটনা অপূরণীয় আঞ্চলিক সংকটের সৃষ্টি করবে।


ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা আরও অভিযোগ করেছে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এই ধরনের বর্বর আচরণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো, বিশেষ করে আইএইএ’র নিষ্ক্রিয়তাকে বিস্ময়কর ও দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছে তেহরান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডাররা নিহত হওয়ার পর থেকে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলি অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে প্রায় প্রতিদিনই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া, ইরান ইতিমধ্যেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি