ইরানের ড্রোন ও মিসাইল বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড আবুধাবি ও বাহরাইনের শিল্পাঞ্চল

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও মহাকাশ খাতের সাথে যুক্ত দুটি বড় অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালনোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানিয়েছে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স এবং নৌবাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘এমিরেটস অ্যালুমিনিয়াম’ এবং বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’ কারখানাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসির মতে, এই স্থাপনাগুলো মার্কিন বাহিনীর সামরিক-শিল্প উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে আমিরাতের কারখানাটি মার্কিন বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বে পরিচালিত হয়। ইরানের দাবি, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানের শিল্প অবকাঠামোতে যে হামলা চালিয়েছে, এটি তারই প্রতিশোধ।

ছবি: সংগৃহীত
আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, ইরানের পাল্টা জবাব এখন আর শুধু চোখের বদলে চোখ নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং যে কোনো আগ্রাসনের জবাবে শত্রুর সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের ইস্পাত কারখানা, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও হাসপাতালেও আঘাত করা হয়েছে বলে তেহরান অভিযোগ করেছে।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ: হামলার পর ‘এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ নিশ্চিত করেছে, আবুধাবির আল তাওয়িলাহ এলাকায় অবস্থিত তাদের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বাহরাইনের কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কারখানায় হামলায় দু’জন কর্মচারী আহত হয়েছে। আমিরাতের কারখানায় ছয়জন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।

ছবি: সংগৃহীত
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব:
কাতারভিক্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষক জেইন বাসরাভি জানিয়েছেন, বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৯ শতাংশ এই অঞ্চল থেকে আসে। ফলে এই হামলা বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। এছাড়া, যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।অন্যান্য দেশে হামলা ও উত্তেজনা: ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের পঞ্চম সপ্তাহে এসে এর আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরবেও। ওমানের সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলায় একজন কর্মী আহত হওয়ার পর ডেনিশ শিপিং গ্রুপ ‘মারস্ক’ সেখানে সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। ওমান সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
এদিকে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা গত কয়েক ঘণ্টায় ১০টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে। কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ডও তাদের আকাশসীমায় চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এভাবে প্রতিটি হামলার পাল্টা জবাব দিতে থাকে, তবে পুরো উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ ভুক্ত দেশগুলোতে এই সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও প্রেস টিভি