মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলার হুমকি ইরানের!

ইরানের রাজধানী তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই হুঁশিয়ারি প্রদান করে।

ছবি: সংগৃহীত
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার মাধ্যমে মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসী শক্তি আবারও ইরানের শিক্ষা ও গবেষণা খাতের ওপর আঘাত হেনেছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ওই অঞ্চলে অবস্থিত সকল মার্কিন ও ইসরাইলি বিশ্ববিদ্যালয় এখন থেকে ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা পেতে ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের অন্তত এক কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে আইআরজিসি।

তবে, এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য আইআরজিসি একটি আল্টিমেটাম বা শর্ত জুড়ে দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি মার্কিন সরকার তাদের আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রক্ষা করতে চায়, তবে তেহরান সময় সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে ইরানের কোনো গবেষণা কেন্দ্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হবে না, এমন নিশ্চয়তাও ওয়াশিংটনকে দিতে হবে। অন্যথায় ইরান তার হুমকি বাস্তবায়ন করবে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তীব্র নিন্দা

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করার অর্থ হলো ইরানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রতি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চরম বিদ্বেষ। তিনি রবিবার এক বার্তায় লেখেন, কোনো সশস্ত্র সংঘাতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। শত্রু যখন চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়, তখনই তারা বৈজ্ঞানিক স্থাপনা ধ্বংস করে বিজ্ঞানের গতিপথ রুদ্ধ করার বৃথা চেষ্টা চালায়।

বাঘাই আরও উল্লেখ করেন, এই আক্রমণগুলো আসলে ইরানের তরুণ প্রজন্মের নিজস্ব প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার সম্মানসূচক মেডেল। শত্রু সেই জায়গাতেই আঘাত করে যেখানে তারা সবচেয়ে বেশি পর্যুদস্ত হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কোনো আমদানি করা পণ্য নয় যে তা ভবন ধ্বংস করে মুছে ফেলা যাবে; বরং এটি একটি প্রাচীন সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ছবি: সংগৃহীত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে ইতিমধ্যে আইআরজিসি শত শত ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক মিসাইল এবং ড্রোন দিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নতুন আক্রমণ সংঘাতকে আরও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।