পুতিন-ইরান ‘মধুচন্দ্রিমা’ দেখে আমেরিকার কপালে ভাঁজ!

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে এবার এক নতুন এবং বিপজ্জনক খেলোয়াড়ের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে, আর তিনি হলেন ভ্লাদিমির পুতিন। ইউরোপীয় মিত্ররা এখন রাখঢাক না করেই মার্কিন কূটনীতিকদের কানে কানে (এবং প্রকাশ্যেও) বলছেন, ইরান যে বিধ্বংসী যুদ্ধ চালাচ্ছে, তার পেছনে রাশিয়ার সরাসরি এবং বস্তুগত মদত রয়েছে। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জো বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে যা স্বীকার করছে, রাশিয়ার সাহায্য তার চেয়েও অনেক বেশি গভীরে।


ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তি হলো, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান যুদ্ধ এখন আর আলাদা কিছু নেই; এ দুটি একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, গত কয়েক বছরে রাশিয়া ও ইরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আকাশচুম্বী হয়েছে। ইরান শুধু রাশিয়াকে ‘শাহেদ’ ড্রোনই দেয়নি, বরং ড্রোন তৈরির কারিগরি কৌশলও শিখিয়েছে। বিনিময়ে রাশিয়া এখন ইরানকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করছে। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি সরাসরিই বলেছেন, ইরানের এই রণসজ্জার পেছনে ‘পুতিনের অদৃশ্য হাত’ কাজ করছে।


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক বিস্ফোরক তথ্যে জানিয়েছেন, রুশ উপগ্রহগুলো এখন ইরানের হয়ে কাজ করছে। রাশিয়ার মহাকাশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং তুরস্ক ও কাতারের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ছবি তোলা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে যাতে তারা ‘আমেরিকানদের হত্যা করতে পারে’।

ফ্রান্সে জি-৭ বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অবশ্য রাশিয়ার এই সহযোগিতাকে খুব একটা পাত্তা দিতে রাজি হননি। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়া এমন কিছু করছে না যা আমেরিকার সামরিক কার্যকারিতাকে ব্যাহত করতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, কে কার সাথে কথা বলছে সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি অবগত এবং যে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হচ্ছে।


বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইল, ইউক্রেন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। রুবিও দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদার কারণে ইউক্রেনের অস্ত্র সরবরাহে কোনো ঘাটতি পড়েনি। তবে তিনি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার যদি কোনো অস্ত্রের প্রয়োজন হয়, তবে আমরা তা আগে নিজেদের জন্যই রাখব।

সহজ কথায়, মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে এখন রাশিয়ার প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। একদিকে ইরান যখন ড্রোনের মরণকামড় দিচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়া তখন পর্দার আড়াল থেকে গোয়েন্দা তথ্যের জোগান দিয়ে সেই কামড়কে আরও বিষাক্ত করে তুলছে। এই ‘অশুভ আঁতাত’ বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণকে যে এক চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।