মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির খোঁজে একট্টা পাকিস্তান, সৌদি, তুরস্ক ও মিশর

ৱমধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-মার্কিন বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধ এবং উত্তেজনা প্রশমনে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। রোবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল অঞ্চলে একটি ‘দ্রুত এবং স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে বের করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করা।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় চার দেশের জোট: পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আমন্ত্রণে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, মিশরের বদর আবদেলাতি এবং তুরস্কের হাকান ফিদান ইসলামাবাদে পৌঁছান। চার দেশের এই শীর্ষ কূটনীতিকরা বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার বিষয়ে একমত হন।

ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার একটি ভিডিও বার্তায় জানান, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ওপর দেশগুলো আস্থা জানিয়েছে। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য মার্কিন-ইরান আলোচনার বিষয়ে চীনও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে আলোচনা: বৈঠকের পর সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইসহাক দার গত শনিবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও কথা বলেন এবং সব হামলা ও শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্থায়ী শান্তির জন্য সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র পথ।

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে পাকিস্তানের জন্য বিশেষ সুবিধা:
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলেও, পাকিস্তানের জন্য একটি ইতিবাচক খবর মিলেছে। ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইরান প্রতিদিন পাকিস্তানের পতাকাবাহী আরও ২০টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিদিন দুটি করে পাকিস্তানি জাহাজ এই কৌশলগত জলপথটি ব্যবহার করতে পারবে। ইরান সরকারের এই পদক্ষেপকে শান্তির পথে একটি গঠনমূলক সংকেত হিসেবে দেখছে ইসলামাবাদ।

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ প্রধান সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। একদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর ক্ষেত্রে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আরব নিউজ ও দ্য ডন