আবারও লোহিত সাগর বন্ধ করে দিতে পারে ইয়েমেন!

অবশেষে ইরান যুদ্ধে সরাসরি যোগ দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে তাদের এই অংশগ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা নির্ভর করছে হুথিদের কৌশলের ওপর। তারা কি দূর থেকে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছে নিজেদের ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে লোহিত সাগর কার্যত বন্ধ করে দেবে, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে ইয়েমেনের হুথিদের সম্ভাব্য সরাসরি সম্পৃক্ততা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট বাব আল-মান্দাব প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী কি শুধুই দূর থেকে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাবে, নাকি তারা আরও বড় পদক্ষেপ নিয়ে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দাব প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেবে। এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যদি হরমুজ প্রণালীর মতো বাব আল-মান্দাবও অচল হয়ে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এতে তেল পরিবহন ব্যাহত হবে, বেড়ে যাবে জ্বালানির দাম, আর চাপ বাড়বে ইতোমধ্যেই নাজুক বিশ্ব অর্থনীতির ওপর।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রাখা হুথিরা একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী। একাধিক বড় সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরও তারা টিকে আছে। এমনকি ২০২৫ সালে ইসরাইলের এক হামলায় শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হলেও, গোষ্ঠীটির সর্বোচ্চ নেতা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, হুথিদের অনেক অস্ত্রই ইরান থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা সরাসরি ইরানের হয়ে যুদ্ধে নামেনি।


২০২৫ সালের মে মাসে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যার ফলে বাব আল-মান্দাব দিয়ে মার্কিন জাহাজে হামলা বন্ধ হয়। তবে এই যুদ্ধবিরতি ইসরাইলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে স্পষ্ট করে হুথিরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, হুথিরা কৌশলগতভাবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একদিকে তারা ইরানের আঞ্চলিক কৌশলের অংশ, অন্যদিকে সৌদি আরবের কাছ থেকেও আর্থিক সুবিধার বিষয়টিও রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে প্রভাব বাড়াতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। ফলে হুথিরাও এই অর্থনৈতিক সমীকরণে নিজেদের জায়গা শক্তিশালি রেখেছে ।তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের প্রকৃত শক্তি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়, বরং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতায়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, তাহলে এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেন সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। আর এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতে।