ইরানের অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোরের ৮৮তম তরঙ্গের আওতায় মঙ্গলবার ভোরে মার্কিন ও ইসরাইলি 'সন্ত্রাসী' লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এক ভয়াবহ বহুমুখী হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী এসব হামলা পরিচালনা করেছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের মাঝপথে 'এক্সপ্রেস হাফং' নামক একটি কন্টেইনার জাহাজ আইআরজিসির নৌবাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজটি ইসরাইলি মালিকানাধীন বলে দাবি করেছে ইরান।
দ্বিতীয় দফার এক সমন্বিত অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে মার্কিন মেরিনদের একটি গোপন আস্তানায় নিখুঁতভাবে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, আইআরজিসির ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে এই মেরিন সেনারা একটি সামরিক ঘাঁটির বাইরে গোপন স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু ড্রোনগুলো তাদের অবস্থান শনাক্ত করে সেখানে আঘাত হানে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাহরাইনের মানামা বিমানবন্দরের কাছে মোতায়েন করা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের একটি 'হক' ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা ড্রোনের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত 'জাবের আল-আহমদ' মার্কিন ঘাঁটির দুটি অত্যাধুনিক আর্লি-ওয়ার্নিং রাডারও সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের সর্বাধিনায়ক তথা সুপ্রিম কমান্ডারের নির্দেশে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বর্তমানে সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে তারা সতর্ক করে দিয়েছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল।
তথ্যসূত্র: ফারস নিউজ এজেন্সি