মার্কিন-ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি এক কড়া বার্তায় জানিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবকে তাঁর দেশ একটি 'ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র' হিসেবে সম্মান করে এবং এখন সময় এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে সমূলে বিতাড়িত করার। খবর ফারস নিউজ।
সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যম এক্সর দেয়া এক বিবৃতিতে আরাগচি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তেহরান সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলো কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং এমন এক ‘আগ্রাসী শত্রুর’ বিরুদ্ধে যারা আরব বা ইরানি- কাউকেই তোয়াক্কা করে না। আরাগচির মতে, এই বিদেশি শক্তিটি (যুক্তরাষ্ট্র) অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৌলিকভাবেই অক্ষম।
বিবৃতিটির সাথে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছবি প্রকাশ করেছেন। ছবিটিতে দেখা যায়, সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক 'এওয়াকস' বিমান ইরানের হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
এই বিমানটি মূলত আকাশপথে কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম বা নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হতো। মার্কিন এই প্রযুক্তির দশা দেখে আরাগচি কটাক্ষ করে লিখেছেন, তাদের আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আমরা কী হাল করেছি, তা একবার দেখুন।
ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির দিন ফুরিয়ে এসেছে। তিনি সরাসরি বলেন, এ অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীকে বহিষ্কার করার সময় এখন চলে এসেছে। তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মূলত যুক্তরাষ্ট্রকেই এই অঞ্চলের প্রধান অস্থিরতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে।
সামগ্রিকভাবে, আরাগচির এই বার্তাটি একদিকে যেমন সৌদি আরবের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে মার্কিন সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর অবস্থানের একটি শক্তিশালী প্রদর্শনী হিসেবেও দেখা হচ্ছে।